পূর্বাচলে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৩-০৩ ২১:৫৩:০৪


ঢাকার পূর্বাচলে নতুন শহরে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়া। বৈদ্যুতিক লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণে এ টাকা বিনিয়োগ করবে। গতকাল বুধবার (২ মার্চ) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশ-কোরিয়া যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম সভায় এ প্রকল্পে বিনিয়োগে সম্মত হয় দেশটি।

বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি), কোরিয়া ওভারসিজ ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (কেআইএনডি) এবং রিপাবলিক অব কোরিয়া যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

‘পূর্বাচল নিউ টাউন ইলেকট্রিক্যাল ডিস্ট্রিবিউশন লাইন’ প্রকল্পের পাশাপাশি গতকালের সভায় আরও আটটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চারটি প্রকল্প আর দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে চারটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। সভায় এসব প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পিপিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুলতানা আফরোজ। প্রতিনিধিদলে ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান আমিন উল্লাহ নুরী, ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার আমীর আলী, বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব নাজমুল আবেদীন, পিপিপি কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক আবুল বাশার।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস এ সভায় বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে যোগ দেন। এ সময় তিনি বলেন, কোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে বেশ কিছু বড় প্রকল্পে কাজ করছে। বাংলাদেশ সরকার এখন কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের বড় বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ প্রকল্পে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ তুলে ধরে সুলতানা আফরোজ বলেন, পিপিপি পদ্ধতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাজ করার উপযোগী প্রযুক্তি, আইন, সামাজিক এবং বাণিজ্যিক পরিবেশ এখন বাংলাদেশে রয়েছে।

সভায় দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় রয়েছে।

সভায় দুই দেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত যে আটটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়, তার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো ছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মেট্রোলাইন নির্মাণ, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানির চাহিদা পূরণে ব্যবস্থা গ্রহণ, পিপিপি পদ্ধতিতে সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং গুলশান ও বনানী এলাকায় কমিউনিটি সেন্টার উন্নয়ন। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চারটি প্রকল্প তুলে ধরা হয়, সেগুলো হলো পূর্বাচলে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ, মাল্টিপারপাস ওয়াটার টার্মিনাল নির্মাণ, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে টার্মিনাল ইয়ার্ড নির্মাণ এবং পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে টার্মিনাল উন্নয়ন প্রকল্প। ভবিষ্যতে এসব প্রকল্প নিয়ে আরও আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব প্রকল্পে অর্থায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রহ রয়েছে।

এএ