ভুল গ্রুপের রক্ত পুশ করায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২২-০৩-০৫ ১০:৫৩:২৫


গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায় নিউ এশিয়া ক্লিনিকে সিজারের পর শরীরে ভুল গ্রুপের রক্ত পুশ করায় রুনা আক্তার (২৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সন্তান জন্মের আট দিন পর শুক্রবার (৪ মার্চ) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধী চলাবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় প্রসূতির চাচা রিটন মিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শনিবার (৫ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূইয়া।

রুনা আক্তার ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাইথল গ্রামের সুলতান মিয়ার মেয়ে।

অভিযুক্তরা হলেন- ক্লিনিকের পরিচালক ফজলুল হক, প্যাথলজিস্ট শরিফাতুন জান্নাত ও দালাল রিপন মিয়া। প্রসূতির চাচা রিটন মিয়া বাদী হয়ে এই তিন জনের নামে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। পুলিশ অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

এদিকে মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে ক্লিনিক তালাবদ্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, সন্তান সম্ভবা মেয়ে রুনাকে বাবা সুলতান মিয়া স্থানীয় দালাল রিপন মিয়ার সহযোগিতায় ২৩ ফেব্রুয়ারি শ্রীপুর পৌর শহরের নিউ এশিয়া ক্লিনিকে এনে ভর্তি করান। পরে সে দিনই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক সন্তানের জন্ম হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতে, প্রসূতি এ নারীকে বি-নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এতে খিচুনি তৈরি হয় প্রসূতির।

অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে ওই প্রসূতি মারা যান।

প্রসূতির চাচা রিটন মিয়া বলেন, ক্লিনিকে ভর্তি করলে তারা জরুরিভাবে রোগীর জন্য ‘বি’ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত জোগাড় করতে বলে। তারা প্রথমেই পরীক্ষা করে রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘বি’ নেগেটিভ বলে জানান। এদিকে আমরা ‘বি’ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত জোগাড় করলে তারা রোগীর দেহে পুশ করেন। রক্ত দেওয়ার পর থেকেই তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে, খিচুনি শুরু হয়। পরে রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করালে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান, রুনার রক্তের গ্রুপ ছিল ‘বি’ পজিটিভ। মৃত্যুর কারণ হিসেবে তারা ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়াকেই দায়ী করেন।

এদিকে তালাবদ্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় বক্তব্যের জন্য ক্লিনিকের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান এ ঘটনায় খোঁজ নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।