পুঁজিবাজারে পতনে বাড়ছে ক্রেতা সংকট

:: প্রকাশ: ২০২২-০৩-০৬ ১৯:২৩:২৭


অব্যাহত পতনে ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। ক্রেতার সংকটে ধারাবাহিক ভাবে কমছে শেয়ারের দাম। এতে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে শেয়ার ক্রয় করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে লেনদেনে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বিনিয়োগকারীরা। প্রতিদিনই লেনদেন কমতে থাকায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ হ্রাস পাচ্ছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রোববার (৬ মার্চ) লেনদেন নেমে এসেছে ৬৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৩১ হাজার টাকায়।

বেশ কিছুদিন ধরে শেয়ারবাজারে দরপতন চলছে। এর ফলে লেনদেনেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এতে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাড়ে ৬০০ কোটিতে নেমে এসেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরপতনের কারণে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ হঠাৎ অনেক কমেছে। কারণ, অনেক শেয়ারের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছেন ঋণ করে যাঁরা বিনিয়োগ করেছেন তাঁরা। ঋণগ্রস্থ বিনিয়োগকারীরা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করলে তাতে পুঁজি হারানোর ভয়ে রয়েছেন। তাই বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিনের লেনদেনে অংশ নিতে পারছেন না।

শেয়ারবাজারের মধ্যম পর্যায়ের একাধিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঋণগ্রস্থ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন ফোর্সড সেল বা জোরপূর্বক বিক্রির আতঙ্ক ভর করেছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজারে এখন যে দরপতন হচ্ছে তার যুক্তিসংগত কোনো কারণ নেই। কিন্তু এটাও সত্য আমাদের শেয়ারবাজার কোনো ব্যাকরণ মেনে চলে না। আমাদের বাজারের বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী না বুঝে বিনিয়োগ করে।

তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব আমাদের শেয়ারবাজার খুব একটা পড়ার কথা না। তবে মনস্তাত্তিক একটা প্রভাব আছে। এ পরিস্থিতিতে কেউ পরিকল্পিতভাবে শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটানোর চেষ্টা করছে কি-না তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির ক্ষতিয়ে দেখা উচিত। বাজারে একদিকে দরপতন হচ্ছে, অন্যদিকে বছরের পর বছর লভ্যাংশ দেয় না ও লোকসানের মধ্যে রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিশ্বের সব দেশেই ভুল নীতির কারণে বুদবুদ তৈরি হয়। ভুল পলিসির কারণে ২০১০ সালে বাংলাদেশেও বুদবুদ ও ধস তৈরি হয়েছিল। সম্ভবত এসব কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালার ক্ষেত্রে অতিরক্ষণশীল অবস্থানে থাকে, পুঁজিবাজারে সূচক একটু বাড়লেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, বাস্তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো তেমন কিছু নেই। বাজারে বেশিরভাগ শেয়ারের মূল্য এখনো যৌক্তিক পর্যায়ের নিচে। গত এক দশকের মূল্যস্ফীতিসহ অন্যান্য বিষয় সমন্বয় করা হলে সূচক এমনিতেই সাড়ে ৭ হাজার থাকার কথা, দৈনিক গড় লেনদেন হওয়ার কথা ৩ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, রোববার সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। কিন্তু শেয়ার বিক্রির চাপে মাত্র ১০ মিনিট পর সূচক পতন শুরু হয়। এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করলেও শেয়ার বিক্রির চাপে নিন্মমুখী থাকে সূচক। এদিন ডিএসইতে ৩৭৯টি প্রতিষ্ঠানের ১৬ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮টি শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে ২৪৭টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির দাম।

এদিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ৫৭ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৬৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে কমেছে ১০ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট এবং ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ২৪ পয়েন্ট।

ডিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৬৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৩১ হাজার টাকার শেয়ার। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৪৪ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার।

পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন 

Sunbd Newsক্যাপিটাল নিউজক্যাপিটাল ভিউজস্টক নিউজশেয়ারবাজারের খবরা-খবর

এএ