রাশিয়ার নিন্দা জানাতে পাকিস্তানকে চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২২-০৩-১৭ ১৮:৫০:৩৩


রাশিয়া ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ নিয়ে ‍যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে চাপ বাড়ছে পাকিস্তানের ওপরও। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে গত ২রা মার্চ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট আয়োজন করা হয়, তাতে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, চীন ও কিছু দেশ। পাকিস্তানের এমন অবস্থানের কারণে হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী দুই ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা। তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে পাকিস্তানের প্রতি ফের আহ্বান জানিয়েছেন। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মজিদ খানের প্রতি একটি চিঠি লিখেছেন ওই দুই কংগ্রেসম্যান।

ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই এ খবর দিয়ে বলছে, বুধবার ওই চিঠি লিখেছেন কংগ্রেসম্যান টেড ডব্লিউ লিউ এবং টম মালিনোস্কি। এতে তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রচেষ্টায় লিপ্ত, রাশিয়াকে একটি আগ্রাসি দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করছে, তখন তার পাল্টা হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে মস্কো সফরে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শেষ মুহূর্তের অনুরোধ এবং পশ্চিমাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে ইমরান খান দুই দিনের সফরে ২৩ শে ফেব্রুয়ারি রাশিয়া সফর করেন।

দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটাই প্রথম কোনো পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফর। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেয়ার কয়েক ঘন্টা পরে তিনি এই সফরে যান।

২৪ শে মার্চ তিনি পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি সংলাপে বসেন। পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসনের নির্দেশ দেয়ার পর ইমরান খানই এমন প্রথম বিদেশি নেতা, যিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

চিঠিতে মার্কিন ওই দুই কংগ্রেসম্যান বলেছেন, যখন সারাবিশ্ব ইউক্রেনকে সমর্থন দিতে ঐক্যবদ্ধ, ঠিক সেই মুহূর্তে মস্কো সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইমরান খান। এর মধ্য দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছেন। রাষ্ট্রদূতকে লেখা ওই চিঠির ভাষা এরকম- আপনার সরকার ২রা মার্চে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল। এই সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পরে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার এমন ঘোষণায় আমরা হতাশ।

ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, একতা ও অখণ্ডতার প্রতি আস্থা রেখে ২রা মার্চ ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট দেয় সদস্য দেশগুলো। এর পক্ষে ভোট পড়ে ১৪১টি। বিরুদ্ধে ভোট দেয় ৩৫টি দেশ। ভোটদানে বিরত থাকে ৩৫টি দেশ। তার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন অন্যতম। ভোটদানে বিরত থাকায় ভারতের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাপ বাড়ছে।

সানবিডি/এনজে