‌‘ইসলামভীতি’ প্রতিরোধ দিবস পালনে জাতিসংঘে প্রস্তাব গৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২২-০৩-১৭ ১৯:৩৯:৪৬


জাতিংসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক ইসলামভীতি প্রতিরোধ দিবস পালনের প্রস্তাবনা গৃহীত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রস্তাবনায় জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সম্মতিতে তা গৃহীত হয়। তাছাড়া ওআইসির ৫৭ সদস্যের পাশাপাশি চীন, রাশিয়াসহ আরও ৮টি দেশ এ প্রস্তাবনায় সহায়তা করে।

তবে এ প্রস্তাবের বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছে ভারত, ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফ্রান্সের প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে ইসলামভীতির প্রতিষ্ঠিত কোনো সংজ্ঞা নেই। এই প্রস্তাবে (রেজল্যুশন) অন্য ধর্মগুলো নিয়ে ভীতির কথা বলা হয়নি।

ভারতের দূত বলেন, এই প্রস্তাবে হিন্দুভীতির বিষয়টি আসেনি।

সহনশীলতা ও শান্তিচর্চায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জোরদারের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবনায় বলা হয়, মানবাধিকার ও ধর্ম-বিশ্বাসের বৈচিত্রময়তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সব ক্ষেত্রে সহনশীলতা ও শান্তির সংস্কৃতি প্রচারে বিশ্বব্যাপী সংলাপকে উন্নীত করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

তাছাড়া ১৯৮১ সালে জাতিসংঘের রেজুলেশনের আলোকে সব ধরনের অসহিষ্ণুতা দূরীকরণ এবং ধর্ম ও বিশ্বাস ভিত্তিক বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানানো হয়।

তাছাড়া বিবৃতিতে ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে মানুষের বিরুদ্ধে পরিচালিত সব ধরনের সহিংসতা ও উপাসনালয়, ধর্মীয় স্থানে হামলার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এসময় সব সদস্য রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক সংস্থা ও সংগঠনকে ইসলামভীতির ঘটনা মোকাবেলায় সব স্তরে সচেতনা বৃদ্ধিতে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে জাতিসংঘে দিবসটি গৃহীত হওয়ায় মুসলিম উম্মাহকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতির ঢেউয়ের বিরুদ্ধে আমাদের বক্তব্য গৃহীত হয়েছে। পাকিস্তানের উত্থাপিত একটি মাইলফলক প্রস্তাব জাতিসংঘ গ্রহণ করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামভীতি বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন সংস্থা দাবি করে আসছে। ওআইসির বাইরে বিষয়টি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সুর চড়া করতে দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামভীতি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক দিবস পালনের প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ।

এএ