৫০ কোটি ব্যয়ে আম রপ্তানিতে বিশেষ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৩-১৯ ১৫:৩৮:৩০


বর্তমানে দেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, মেহেরপুর, সাতক্ষীরাসহ পার্বত্য জেলায় এখন বেশ মানসম্মত আম উৎপাদন হয়। রাজধানী ঢাকা থেকে এসব জেলার দূরত্ব অনেক। পরিবহন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণসহ নানান কারণে প্রতিবছর তাই উৎপাদিত আমের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়। নষ্ট রোধ করে বিদেশে বাড়তি আম রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। তবে বেশ কিছু ব্যয় কাটছাঁট করে অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটি জুলাই ২০২২ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে ডিএই। অধিক আম উৎপাদন হয় এমন জেলার যে সব কৃষকের ৫০ শতকের বেশি কৃষিজমিতে আম বাগান রয়েছে তাদের উপকারভোগী কৃষক হিসেবে বাছাই করা হবে। রপ্তানিমুখী বাজার সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়। আম যায় ইংল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও হংকংয়ে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বছরে দেশে এক লাখ ৭৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে নষ্ট হয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় পাঁচ শতাংশ আমের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আম নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষাসহ বিদেশে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন বাড়ানো হবে। এতে রপ্তানি বাড়বে দ্বিগুণ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রকল্পের ফোকাল পারসন মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় যে সব কৃষকের ৫০ শতকের বেশি কৃষিজমিতে আম বাগান রয়েছে তাদের উপকারভোগী কৃষক হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। মানসম্মত আম উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি আয়ও বাড়ানো হবে। দেশে এক লাখ ৭৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আমের উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে। প্যাকেজিং, আম ব্র্যান্ডিং, ওয়াশিংসহ সব ধরনের সুবিধা পাবেন কৃষক। আমাদের মূল লক্ষ্য আম নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে বিদেশে রপ্তানি বাড়ানো।

ডিএই জানায়, প্রকল্প এলাকার অন্তর্ভুক্ত দেশের চারটি বিভাগের ১৫টি জেলার ৪৬টি উপজেলা। রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, তানোর, মোহনপুর, নওগাঁর বদলগাছি, সাপাহার, পোরসা, মান্দা, নাটোর সদর, বড়াইগ্রাম, বাগাতিপাড়া, লালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, রাঙ্গামাটি সদর, নানিয়ারচর, বরকল, বান্দরবান সদর, দিঘীনালায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়া তালিকায় আরও রয়েছে খাগড়াছড়ি সদর, দিঘীনালা, রংপুরের সদর, পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, যশোরের সদর, মনিরামপুর, শার্শা, সাতক্ষীরার কলারোয়া, দেবহাটা, কুষ্টিয়ার মিরপুর, দৌলতপুর, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর।

সানবিডি/এনজে