সুপেয় পানির তীব্র সংকটে দিনাজপুরের ৫০ ইউনিয়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৩-২২ ১১:৩৫:২৯
প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুম যেন দিনাজপুরবাসীর জন্য বয়ে আনে সীমাহীন কষ্ট! চৈত্র-বৈশাখ মাস এলেই জেলার অন্তত ৫০টি ইউনিয়নে দেখা দেয় সুপেয় পানির তীব্র সংকট। প্রতি বছর ভুক্তভোগী ইউনিয়নের এ সংখ্যা বাড়ছে। ইরি-বোরো ধান চাষ শুরু হলেই পানির চাহিদা বেড়ে যায়। তখন টিউবওয়েল থেকে সুপেয় পানি মেলে না। সংকট নিরসনে সরকারিভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু টিউবওয়েল বসালে তাতেও মিলছে না সুফল। সুপেয় পানির জন্য তাই ছুটতে হয় কয়েক কিলোমিটার দূরে। এ সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় বর্ষা মৌসুমের আগ পর্যন্ত।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খরা মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্থিতিতল ২৫ ফুটের নিচে নেমে গেলে টিউবওয়েলে পানি তোলা সম্ভব নয়। প্রতি বছরই স্থানভেদে পানির এই স্থিতিতল গড়ে প্রায় এক মিটার করে নেমে যাচ্ছে। জেলার ১০২টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৫০টি ইউনিয়নে খরা মৌসুমে এ সমস্যা দেখা দেয়।
আরও জানা যায়, এ সমস্যা সমাধানে ২০২০ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জেলার ১০২টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ১৫০টি টিউবওয়েল (তারাপাম্প) বসায়। একইভাবে ২০২১ সালে বসানো হয় ২ হাজার ৬৭৮টি টিউবওয়েল। চলতি বছরও টিউবওয়েল বসানোর প্রক্রিয়া চলমান।
পানির এ সমস্যা কৃষিতে সেচের ক্ষেত্রেও। কৃষকরা বলছেন, পানির স্থিতিতল নেমে যাওয়ায় ফসলি জমিতে সেচের অভাব ও সময় দুই-ই বেড়েছে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে সেচের অভাবে কমছে উৎপাদন।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এন নাইমূল এহসান বলেন, বিভিন্ন কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্থিতিতল নেমে যাচ্ছে। প্রতি বছরই স্থানভেদে পানির এই স্থিতিতল গড়ে প্রায় এক মিটার করে নামছে। এর মধ্যে বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাব, ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর অধিক নির্ভরতা এবং ভূ-উপরস্থ পানির স্বল্পতাসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। পানির এমন সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার টিউবওয়েল বসানো, নদী খননসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
সানবিডি/এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













