সুতা উৎপাদনে তুলা সংকট, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২২-০৩-৩০ ১০:১০:০৬
বিশ্বব্যাপী জাহাজ ও কনটেইনার সংকট ছাড়াও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে জট। এ দুই কারণে বাংলাদেশে আমদানি পণ্যের চালান নিয়ে আসতে আগ্রহী নয় শিপিং কোম্পানিগুলো। ফলে তুলা আমদানি সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হচ্ছে দেশের রফতানিমুখী সুতা উৎপাদনকারী স্পিনিং মিলগুলোর। আবার কাঁচা তুলা যখন বন্দরে পৌঁছাচ্ছে তখন তা পরিশোধন বা ফিউমিগেশন প্রক্রিয়ায় চালান ছাড় করতে আরো বেশি দেরি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ দুই প্রেক্ষাপটেই সুতা উৎপাদনে তুলা সংকটের মুখে পড়ছে মিলগুলো। এ ধারা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে তুলা আমদানি হয়েছে ৭৫ লাখ বেল। ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি ৭৬ লাখ বেল ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছর শেষে আমদানি ৯০ লাখ বেল ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে। কিন্তু আমদানি তুলার প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা স্পিনিং মিল মালিকদের ফেলে দিয়েছে দুশ্চিন্তায়।
এ বিষয়ে বিটিএমইএ সূত্রে জানা গেছে , তুলা আমদানিতে বহুমুখী সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে স্পিনিং মিলগুলোকে। বিশ্বব্যাপী জাহাজসহ কনটেইনার সংকটসহ রয়েছে বন্দর জট। দেশে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরেও রয়েছে ফিডার ভেসেলের সংকটসহ জটের সমস্যা। সব মিলিয়ে অনেক শিপিং কোম্পানি বাংলাদেশী পণ্য পরিবহনে আগ্রহী হচ্ছে না।
দেশে বিটিএমএ সদস্য স্পিনিং মিল ৪৩০টিরও বেশি। এ মিলগুলোর কেনা তুলাসহ অন্যান্য কাঁচামাল দেশে আমদানিতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঁচ-ছয় মাস সময় লাগছে। ক্রয় করা তুলা যথাসময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারার কারণে মিলগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশে কাঁচা তুলা আমদানি হচ্ছে মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, সিআইএসভুক্ত দেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে। স্পিনিং মিলগুলোর কারিগরি প্রেক্ষিত বিবেচনায় ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হয়। উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে মিলগুলোয় কাঁচা তুলার নিরবচ্ছিন্ন জোগান অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প থাকে না। এছাড়া উৎপাদিত সুতা তৈরি পোশাক খাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহের লক্ষ্যেও স্পিনিং মিলগুলোকে অব্যাহতভাবে কাঁচা তুলা আমদানি করতে হয়।
বিটিএমএ সভাপতি মোহম্মদ আলী খোকন বলেন, বর্তমানে তুলা আমদানিতে শিপিং সমস্যার কারণে সদস্য মিলগুলো কাঁচামাল আমদানিতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ক্রয় করা তুলা যথাসময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারার কারণে মিলগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আবার মিলে গ্যাস সংকটের কারণেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।
সানবিডি/এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














