তলিয়ে গেছে স্বপ্নের সোনালী ফসল
হাওরবাসীর ঈদ কেড়ে নিয়েছে অসময়ের বন্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২২-০৫-০২ ০৯:২৫:৩০
মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে গত দুই বছরের ঈদ আয়োজনে কোনোই আড়ম্বর ছিল না সারা দেশে। দীর্ঘদিন পর এবার এসেছে নিষেধাজ্ঞাবিহীন ঈদ। কিন্তু উৎসব আয়োজনের ঠিক মুখে মুখেই হাওরে এসেছে বন্যা। অসময়ের বন্যায় ডুবে যাওয়া ফসল হাওরবাসীর কাছ থেকে ঈদ কেড়ে নিয়ে কপালে ফেলেছে হতাশার চিহ্ন।
ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে ভেঙেছে একের পর এক ফসলরক্ষা বাঁধ। এতে হাওরে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে স্বপ্নের সোনালি ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাওরের হাজারো কৃষক। এ এক ক্ষতিতে শুধু শেষ নয় হাওরবাসীর দিন, দিন ভালো গেলেও রাতে নেমে আসে ভয়ংকর কালবৈশাখী ঝড়। সব মিলিয়ে এবারো আতঙ্কে ঈদ কাটবে হাওরবাসীর। অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে কোনো কোনো বাঁধে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। জেলার সবগুলো হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে।
এ সময় কৃষকরা ধান গোলায় তুলে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ঈদের বাজারে ব্যস্ত থাকতেন কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে তার উল্টো চিত্র। হাওরের কৃষকরা জানান, অনেক হাওরে ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কিছু রয়েছে হুমকির মুখে। হাওরজুড়ে কৃষকদের কান্না থামছে না। অনেকের জমির ধান গোলায় তুলতে পারেননি। ধান কাটার কাজে খুব ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে প্রতিদিন রাতে হচ্ছে কালবৈশাখী ঝড়। ঝড়ের কবলে অনেক জায়গায় বিদ্যুতের লাইনসহ গাছপালা ও ঘরবাড়ি ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাওরবাসী।
তাহেরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, করোনার সময়ও হাওরের মানুষ অবহেলিত ছিল, তখন তারা ঈদ করতে পারেনি অভাবে। মাছ মারলে তারা ভাত পায়। মানে দিন আনে দিন খায়। তাদের ঈদ বলতে কিছু ছিল না। এখনো প্রায় একই পরিস্থিতি। কৃষকরা ধান তোলা নিয়েই ব্যস্ততার মধ্যে রয়েছে। ঘরে যদি খাবার না থাকে তাহলে তো তারা ঈদ পাবে না। এখন কৃষক ধানের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু তারা ধান কাটতে পারছে না। ধান পানি নিয়ে গেছে। তারা ঈদ করবে কীভাবে? শিশু থেকে শুরু করে সবাই ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত রয়েছে। হাওরে এখন ধানকাটা প্রায় শেষের পথে। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় যে ক্ষতি হয়েছে তা তো হয়েই গেছে।
তাহেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো রায়হান কবীর বলেন, হাওরে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাকি হাওরগুলোর ধান কৃষকরা গোলায় তুলতে পেরেছেন। এখন পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ। হাওর ও হাওরের বাইরে মিলিয়ে ৫ শতাংশ ধান বাকি আছে। হাওরের কৃষকদের একমাত্র উপার্জনের উৎস ধান। ধান কাটতে পারলে তাদের ঈদ হবে। কৃষকরা খুব ব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছেন। ঈদকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
যদিও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া মানবিক সংগঠনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ঈদের পোশাক ও ঈদসামগ্রী বিতরণ করেছে।
সানবিডি/এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













