চট্টগ্রাম বন্দরে যেভাবে রক্ষা পেল ৮০০ কোটি টাকার পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৫-০৫ ০৯:২২:১৪


চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটির বাইরে প্রথমবারের মতো দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ থেকে নামানো হলো কনটেইনার। বন্দরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও জাহাজ থেকে বেসরকারি জেটিতে কনটেইনার নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়ায় তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভিয়েতনামের পতাকাবাহী ওই কনটেইনার জাহাজ। পরে সেটিকে কুতুবদিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ফেরত আনা হয়।

আজ বুধবার সন্ধ্যার পর দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি থেকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে কনটেইনার নামানো শুরু হয়।

এমভি হাইয়ান সিটি নামে জাহাজটিতে পানি প্রবেশ করে ৭ ডিগ্রি কাত হয়ে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। জাহাজে ১৫৬ টিইইউস জরুরি পণ্যবাহী কনটেইনার ছিল। এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।

এ সময় বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় ঘটনা। বন্দরের ১৩৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম মূল জেটির বাইরে কোনও বেসরকারি জেটিতে কনটেইনার নামানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. উমর ফারুক বলেন, ভিয়েতনামের পতাকাবাহী এমভি হাইয়ান সিটি জাহাজ জরুরি রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার নিয়ে ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করে। কিন্তু কুতুবদিয়ায় গিয়ে এম টি ওরিয়ন এক্সপ্রেস নামে আরেকটি জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এমভি হাইয়ানের। এতে এমভি হাইয়ান জাহাজটির পোর্ট সাইডে কার্গো হোল্ডে ছিদ্র হয়ে পানি প্রবেশ করে এবং ৭ ডিগ্রি কাত হয়ে যায়। জাহাজের কার্গো হোল্ডে পানি প্রবেশের কারণে ড্রাফট বেড়ে ১০.৭ মিটার হয়ে যায়। এজন্য জাহাজটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। সংঘর্ষের পর জাহাজটি কুতুবদিয়ায় নোঙর করে।

তিনি বলেন, এমভি হাইয়ান সিটি জাহাজে এক হাজার ১৫৬ টিইইউস জরুরি পণ্যবাহী কনটেইনার ছিল। যার রফতানি মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিকে মেরামত করার জন্য বোঝাইকৃত কনটেইনার খালাস জরুরি হয়ে পড়ে। পরে জরুরি ভিত্তিতে প্রথমবারের মতো বেসরকারি জেটিতে কনটেইনার নামানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সানবিডি/এনজে