বিমানবন্দরের সেবা নিয়ে সালমান এফ রহমানের অসন্তোষ
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৫-০৯ ২১:২৮:৫৮
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান (সালমান এফ রহমান)।
সোমবার (৯ মে) বিকেলে অকস্মাৎ শাহজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সেখানকার নানা সেবা প্রসঙ্গে কথা বলেন। এসময় বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট কিনা প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ওভারঅল স্যাটিসফাইড নই। যা দেখেছি এখানে পরিস্থিতি উন্নত করার অনেক সুযোগ। সেসব সুযোগের কথা সংশ্লিষ্টদের বলে দিয়েছি। মাঠ পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের মন মানসিকতা বদলাতে হবে।’
বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার লোকবল দিয়ে যাত্রী ভোগান্তি কমানো যাচ্ছে না, এটি ঠিক করতে তৃতীয় পক্ষকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘মোটামুটি একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং, লাগেজ হ্যান্ডলিং, স্ক্যানার-এসব ব্যবস্থাপনা- এসব কাজে আউটসোর্সিং করা হবে। এগুলো আউটসোর্স করার চিন্তা আছে।’
এখনই বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সার্ভিস তৃতীয় পক্ষের কাছে দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এখনই তা করা সম্ভব না। কারণ, এই প্রক্রিয়া শেষ করতে যে সময় লাগবে, ততদিনে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ হয়ে যাবে। এখন যা অবস্থা সেটাকে উন্নত করাই লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘সরকার খুব সিরিয়াসলি বিষয়টি নিয়েছে। এ পরিদর্শনের পরে যদি আমরা দেখি যে অভিযোগের হার কমছে না, কন্টিনিউ করছে, তাহলে আরও কঠিন ব্যবস্থা নেব। প্রক্রিয়াটা আজকে শুরু করেছি।’
কাস্টমসে যাত্রীদের হয়রানি প্রসঙ্গে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘যাত্রীরা নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণ আনছে দেশে। তবে শুল্কযোগ্য পণ্যের টাকা পরিশোধের জন্য কাস্টমস থেকে ব্যাংক একটু দূরে হওয়ায় যাত্রীদের অসুবিধা হয়। এজন্য ব্যাংক ও কাস্টমস পাশাপাশি রাখার চেষ্টা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এমন খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এই বিমানবন্দর পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন। আমার যেটা দেখেছি, দুই তিনটা জায়গায় হয়রানি হয়। এর মধ্যে একটা ইমিগ্রেশনে করোনা সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার বড় লাইন। এখন অধিকাংশ মানুষ কিউআর কোড নিয়ে আসছে। তারা সহজেই ইমিগ্রেশন পার হতে পারছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আরেকটা অভিযোগ শুনেছিলাম, ইমিগ্রেশনে হয়রানি হয়। অনেকে বলেছেন, ইমিগ্রেশন পার হতে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা হয়। এসব হয়রানির অভিযোগ জানাতে যাত্রীদের জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।’
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বিমানবন্দরে দেশের ইমেজটা ফুটে ওঠে। বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা যদি খারাপ থাকে তা হলে শুরুতেই দেশ সম্পর্কে একটা খারাপ অভিজ্ঞতা হয়। এটা যেন না হয়। বিষয়টা নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জেল হোসেন,বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালনা) এয়ার কমোডর সাদিকুর রহমান চৌধুরী, সদস্য (নিরাপত্তা) গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মাহমুদ মান্নাফী, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














