ঊর্ধ্বমুখী ডলারের দাম: বিপাকে আমদানিকারকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২২-০৫-১২ ২১:০৮:০৫ || আপডেট: ২০২২-০৫-১২ ২১:০৮:০৫

মুদ্রাস্ফীতিসহ বিভিন্ন কারণে টাকার বিপরীতে বাড়তির দিকে ডলারর দাম। প্রতিদিনই স্থানীয় মুদ্রাবাজারে এ অবস্থার উত্থান-পতন চলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারকরা। সাধারণত একটি পণ্য চালান আমদানির পর ব্যবসায়ীরা তিন মাস সময় পেয়ে থাকেন এলসির টাকা পরিশোধের জন্য। বর্তমানে মুদ্রাবাজারের এমন অস্থিরতার কারণে যে দরে ডলার কিনে এলসি করছেন, পণ্য ছাড়করণের সময় তার চেয়ে বেশি দরে ডলারের দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই দেশের আমদানি ব্যয় ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। শুধু বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ২৯৫ টন পণ্য। রেকর্ড সৃষ্টি করা এ আমদানি ব্যয় চাপে ফেলেছে দেশের অর্থনীতিকে। এতে সারা দেশে ডলারের বাজার অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে যেসব ব্যবসায়ী আমদানি বাণিজ্য করেন, তারা ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন। ২৫ হাজার ডলারের এলসির জন্য ব্যবসায়ীদের ডলারের দর দিতে হচ্ছে ৮৫ টাকা ৭৫ পয়সা, ৫০ হাজার ডলারের এলসি করলে প্রতি ডলার ৯৩ টাকা এবং তারচেয়ে বেশি ডলারের এলসির ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দর ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, সরকার ডলারের রিজার্ভ যাতে না কমে আসে, সেজন্য বিলাসপণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত করছে। তবে অন্যান্য পণ্য যারা আমদানি করবেন, তাদের বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। আবার একটি পণ্য চালান দেশে আসতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লেগে যায়, তখন দেখা যায় ডলারের রেট আরো বেড়েছে। সবদিক দিয়ে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এভাবে ডলার সংকট চলতে থাকলে আগামীতে ব্যবসায়ী বিশেষ করে আমদানিকারকদের পথে বসার উপক্রম হবে।

সানবিডি/এনজে