কুড়িগ্রামে বিলে ডুবে আছে ধান, শঙ্কায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৫-১৫ ১৬:৫৪:১২


কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলার মাদাইডাঙ্গা বিল পানিতে টইটুম্বুর। হাজার হেক্টরেরও বে‌শি আয়ত‌নের এই বি‌লে আবাদ করা হয়েছে বো‌রো ধান। পা‌নি নিষ্কাশনের সু‌বিধা না থাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় হাজা‌রও কৃষক। বিলের পানি নিষ্কাশনে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে সরকা‌রের সং‌শ্লিষ্ট বিভা‌গের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অ‌ফিস সূত্রে জানা গেছে, দাঁতভাঙ্গা ও শৌলমারী ইউনিয়নের বিশাল এলাকাজুড়ে মাদাইডাঙ্গা বিল। বিল‌টি এক ফস‌লি। এটি শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দির পুড়ারচর গ্রাম থেকে উত্তরে গোবরারগ্রাম পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রাম থেকে বংশীরচর গ্রাম পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার প্রশস্ত। এখানে প্রায় দেড় হাজার কৃষকের এক হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ হেক্টর জমিতে সারাবছর পানি থাকে। বাকি প্রায় ৭শ’ হেক্ট‌রেরও বে‌শি আয়ত‌নের জমিতে বোরো চাষ হয়। ত‌বে নিষ্কাশ‌নের সু‌বিধা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে ধান নষ্ট হয়ে যায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাদাইডাঙ্গা বিলের কিছু অং‌শে মাছের ঘের। বেশিরভাগ জমিতে চাষ করা হয়েছে বোরা ধান। বৃষ্টির পানিতে বিলের অনেক জায়গায় বোরো ক্ষেত ডুবে গেছে। অ‌নে‌কে বাধ্য হ‌য়ে ডুবন্ত ধান কে‌টে নেওয়ার চেষ্টা কর‌ছেন।

দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় যুগ যুগ ধরে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি থেকে যাচ্ছে বিলের জমি। বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তি‌নি বলেছেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেবেন।’

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‌‘বিল‌টি এক ফস‌লি। তাও জলাবদ্ধতার কার‌ণে ক্ষ‌তিগ্রস্ত হন কৃষকরা। বিলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করতে পারলে বোরো ও আমন দুই মৌসু‌মেই আবাদ করা সম্ভব হ‌বে।’

সানবিডি/এনজে