সবচেয়ে কম দরিদ্র গুলশানে, বেশি দরিদ্র চর রাজিবপুর: বিবিএস

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২২-০৫-২২ ১৯:৩২:৪০ || আপডেট: ২০২২-০৫-২২ ১৯:৩২:৪০

বাংলাদেশে সবচেয়ে কম দরিদ্র মানুষের বাস ঢাকার গুলশানে। এখানে দারিদ্র্যের হার ০ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বাস কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায়। এখানে দারিদ্র্যের হার ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

২০১৬ সালের তথ্য উপাত্ত ব্যবহার করে উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বের করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার পরিচালনার জন্য সারা দেশকে ৫৭৭টি উপজেলায় (মেট্রোপলিটন থানাসহ) বিভক্ত করা হয়েছে, যাতে এসব ডাটা ব্যবহার করে দারিদ্র্য নিরসেন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

রোববার (২২ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) কার্নিভাল হলে ‘প্রভার্টি অ্যান্ড আন্ডারনিউট্রিশন ম্যাপস বেজড অন স্মল এরিয়া এস্টিমেশন টেকনিক’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিবিএস ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করেছে।

সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেনি পিয়ার্সি উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বিবিএসের প্রভার্টি অ্যান্ড আন্ডার নিউট্রিশন ম্যামিংসের ফোকাল পয়েন্ট মো. আলমগীর হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সেমিনারে জানানো হয়, বিভাগগুলোর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার গ্রুপে অবস্থানকারী উপজেলার সংখ্যায় বৈষম্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায় চট্টগ্রাম বিভাগে। অতি নিম্ন দারিদ্র্য হার গ্রুপে বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের কোনো উপজেলা নেই। রংপুর বিভাগে অতি নিম্ন দারিদ্র্য হার গ্রুপে অবস্থানকারী উপজেলা শুধু একটি। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে অতি উচ্চ দারিদ্র্য হার গ্রুপে অবস্থানকারী উপজেলা মাত্র একটি। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঢাকা বিভাগে ৭৭ টি উপজেলা – মেট্রো থানা আছে অতি নিম্ন দারিদ্র্য হার গ্রুপে। একই সঙ্গে এ বিভাগে ১২টি উপজেলা আছে অতি উচ্চ দারিদ্র্য হার গ্রুপে।

বরিশাল বিভাগে দারিদ্রের হার ২৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এই বিভাগের ভোলার দৌলতখান উপজেলায় দারিদ্র হার কম, মাত্র ১২ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দারিদ্র্যের হার বেশি, ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বিভাগে গড় দারিদ্র হার ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এই বিভাগে সব থেকে কম দারিদ্র্য চট্টগ্রাম সদরে, মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য বান্দরবানের থানচি উপজেলায়, ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের গড় দারিদ্র্য হার ১৬ শতাংশ। সব থেকে কম দারিদ্র্য গুলশানে, মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ। মিঠামইন উপজেলায় দারিদ্র্য বেশি, ৬১ দশমিক ২ শতাংশ। খুলনা বিভাগে গড় দারিদ্র্য ২৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই বিভাগের চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দারিদ্র্যের হার কম, ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। দারিদ্র্য বেশি মাগুরার মোহম্মদপুর উপজেলায়, ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ।

ময়মনসিংহে বিভাগে গড় দারিদ্র্য হার ৩২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ময়মনসিংহের ভালুকায় দারিদ্র্য কম, ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এই বিভাগে বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়, ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে গড় দারিদ্র হার ২৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এই বিভাগে কম দারিদ্র রাজশাহীর বোয়ালিয়া উপজেলায়, মাত্র ৯ শতাংশ। দারিদ্র্য বেশি নওগাঁর পোরশায়, ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ। রংপুরে গড় দারিদ্র্য ৪৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। বেশি দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর, ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ। সব থেকে কম দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা অঞ্চগড়ের অটোয়ারী, ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। সিলেটে গড় দারিদ্রের হার ১৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। এই বিভাগে কম দারিদ্র্যপ্রবণ উপজেলা সিলেটের বিশ্বনাথ, ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। বেশি দারিদ্র সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ। বাংলাদেশে গড় দারিদ্র্য হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

বিবিএসের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকাভিত্তিক দারিদ্র্য হার বের করলাম। এটা দেরিতে করতে হয়েছে নানা কারণে। সামনে আরও দ্রুত সময়ে উপজেলাভিত্তিক দারিদ্র্য হার বের করব। তবে, দারিদ্র্য হার বের করায় অনেক সংসদ সদস্য খুশি নন। অনেক সংসদ সদস্য আমার কাছে আসেন দারিদ্র্য হার বেশি দেখানোর জন্য, যাতে বেশি বেশি সুবিধা ভোগ করা যায়।’