কম ক্ষতিগ্রস্ত মুদ্রার তালিকায় বিশ্বে দ্বিতীয় ‘টাকা’

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২২-০৫-২২ ২১:২০:৩৮ || আপডেট: ২০২২-০৫-২৩ ২২:৩৬:৩৯

করোনাভাইরাস মহমারির রেশ না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কয়েকটি তেল রপ্তানিকারী দেশ ছাড়া পৃথিবীর সব দেশেই ডলারের বিপরীতে মুদ্রার মূল্য ব্যাপকভাবে কমেছে। কমেছে টাকার মানও।

তবে ডলারের বিপরীতে নিজস্ব মুদ্রার মূল্য কম হ্রাস পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে এশিয়াসহ গোটা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে প্রথম বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি পরিচালিত এক গবেষণা থেকে এই তথ্য উপস্থাপন করেন তিনি। যা শনিবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয়ে তুলে ধরা হয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, এই সময়ে কয়েকটি তেল রপ্তানিকারী দেশ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান বেড়েছে।

সেলিম মাহমুদ বলেন, এতে প্রমাণিত হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে পরিচালিত গবেষণায় দেখানো হয়, বাংলাদেশের ওপরে আছে শুধু কম্বোডিয়ার নাম।

গবেষণায় দেখানো হয়, ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্যমান কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, ভারতীয় রুপির কমেছে ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ, পাকিস্তানি রুপির ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ, নেপালি রুপির ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, মিয়ানমার কিয়াটের ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ, চীনা ইউয়েনের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, থাই বাথের ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, জাপানি ইয়েনের ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়ানের ১২ দশমিক ৭ শতাংশ, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের ৩ দমমিক ৯ শতাংশ, ফিলিপিনো পেসোর ৯ শতাংশ, তাইওয়ান ডলারের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, সিঙ্গাপুর ডলারের ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

এ ছাড়া কম্বোডিয়ান রিয়েলের শূন্য শতাংশ, ব্রুনাই ডলারের ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, লাও কিপ এর (লাওস) ৪১ শতাংশ, টার্কিশ লিরার ৮৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ, মিসরীয় পাউন্ডের ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকান রেন্ডের ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলারের ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ব্রিটিশ পাউন্ডের ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ইউরোর ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, সুইস ফ্রাঙ্কের ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, সুইডিশ ক্রোনারের ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ, নরওয়েজিয়ান ক্রোনের ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ডেনিশ ক্রোনের ১৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ, পোলিশ জেলোটির ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ, কানাডিয়ান ডলারের ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, আর্জেন্টাইন পেসোর ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, চিলিয়ান পেসোর কমেছে ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

যেসব মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান বেড়েছে, এদের মধ্যে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ইউরোর বিপরীতে ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ভারতীয় রুপির বিপরীতে ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিপরীতে ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ, চীনা উয়েনের বিপরীতে ১ দশমিক ৩২ শতাংশ, কানাডিয়ান ডলারের বিপরীতে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরীয় ওয়ানের বিপরীতে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ডেনিশ ক্রোনের বিপরীতে ১১ দশমিক ৯৭ শতাংশ, আর্জেন্টাইন পেসোর বিপরীতে ২১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, সুইস ফ্রাঙ্কের বিপরীতে ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলারের বিপরীতে ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গবেষণায় দেখানো হয় ডলারের বিপরীতে মান বেড়েছে মাত্র দুটি দেশের মুদ্রার। ডলারের বিপরীতে রাশিয়ান রুবলের মান বৃদ্ধি বেড়েছে ১৯ দশমিক ০৫ শতাংশ আর ব্রাজিলিয়ান রিয়েল বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘কোভিড পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্ব একটা গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে বিএনপি এবং তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশে নানা গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে দেশের বড় ক্ষতি করতে চায়। তারা দেশবিরোধী অপশক্তি । আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের তথা আমাদের জাতীয় স্বার্থে এদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।’

এএ