ইউক্রেন সংকট: আরও দাম বাড়তে পারে কয়লার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৫-২৪ ১৭:৪৬:৫৬


তেল-গ্যাসের মতো কয়লার দামও বাড়ছে বিশ্ববাজারে। দেশের বড় দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হতে না হতেই এভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি চিন্তায় ফেলেছে সরকারকে।

সহসাই কয়লার দাম কমছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইউক্রেন সংকটের কারণে দাম আরও বাড়তে পারে।

এই অবস্থায় দ্রুত দেশের বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে উৎপাদনের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বিশ্বের সবচেয়ে ভালো কয়লার দাম টনপ্রতি এখন ৩০০ ডলারে ঠেকেছে। তবে বাংলাদেশ যে কয়লা আমদানি করছে তার দাম পায়রাতে প্রতিটন ১৮০ ডলার। বছরের শুরুর দিকেও যা ১০০ ডলারের মধ্যে ছিল।

পরিবহন ব্যয়ের কারণে বছরের শেষভাগে চালু হতে যাওয়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লার দাম টনপ্রতি ২২০ ডলারে ঠেকবে বলে পিডিবির ধারণা।

তবে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লার দাম এখন ১৩৬ ডলার করে মেটাচ্ছে পিডিবি।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রতি ইউনিটে ছয় টাকার মতো। রামপালে সাত টাকার বেশি পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রই এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট করে। ফলে কেন্দ্র দুটি ফুল লোডে চালানো হলে দুই হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।

সরকার ধারণা করেছিল এসব কেন্দ্রের জ্বালানি অর্থাৎ কয়লার দাম কম থাকলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই আশা ফিকে হয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়লার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ জাহাজ ভাড়া ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। বিশেষ করে ইউক্রেন সংকটকেও দায়ী করছেন অনেকে।

পশ্চিমা দেশগুলোর নানামুখী অবরোধের কারণে রাশিয়া তাদের জ্বালানি তেল সরবরাহে অনেক কাটছাঁট করেছে। এই সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেলের উৎপাদনও বাড়ায়নি। ফলে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে।

এই বিকল্পই হলো কয়লা। অর্থাৎ এর আগে যেসব কয়লাচালিত কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা কমানো হয়েছিল এখন আবার তা বাড়ানো হয়েছে। এতেও কয়লার বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে পশ্চিমা দেশগুলো কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন একেবারে কমিয়ে দিয়েছিল। এর বিকল্প হিসেবে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি গ্যাসও ব্যবহার করতো। কিন্তু এখন সেই গ্যাসই দুষ্প্রাপ্য তাদের কাছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, ‘কয়লার দাম বিশ্ব বাজারে ৪-৫ গুণ বেড়েছে। আবার অন্য জ্বালানির চেয়ে কয়লার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এখন কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত চালু করা দরকার। এতে তেল-গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। সামগ্রিক উৎপাদন খরচও কমে আসবে।’

সানবিডি/এনজে