কাটছে না অস্থিরতা

টানবাজারে পাউন্ডে ৫-২০ টাকা বেড়েছে সুতার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৫-২৯ ০৯:১৬:৩১


অস্থিরতা কাটছে না দেশের সুতার বাজারে। নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার টানবাজারে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সব কাউন্টের সুতার দাম আরেক দফায় ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্পিনিং মিল থেকে সুতা সরবরাহ করা হচ্ছে না। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ১০ কাউন্টের সুতা পাউন্ডপ্রতি বেচাকেনা হচ্ছে প্রকারভেদে ৯৫-১১০ টাকা দরে। দুই সপ্তাহ আগেও একই কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হয়েছিল ৭৫-৮০ টাকায়। পাউন্ডপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

২০ কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ১০৭-১২২ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ১০৫-১১৮ টাকায়। দাম বেড়েছে পাউন্ডপ্রতি ৫ টাকা।

এক্সপোর্ট কোয়ালিটির ২৪, ২৬ ও ৩০ কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ১৬৬-১৮৫ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগেও একই কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হয়েছিল ১৬৫-১৭০ টাকা দরে। দাম পাউন্ডপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।

৪০ কাউন্টের সুতা বিক্রি হচ্ছে ২০৫-২১০ টাকা দরে। টানা সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ২২০-২২২ টাকা দরে। দাম বেড়েছে প্রায় ৫ টাকা। ৫০ কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ২৫০-২৬৫ টাকায়। একই কাউন্টের সুতা দুই সপ্তাহ আগে বেচাকেনা হয়েছিল ২৪৫-২৫০ টাকায়। দাম বেড়েছে পাউন্ডপ্রতি ১৫ টাকা।

৬০ কাউন্টের সুতা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে পাউন্ডপ্রতি ২৮৫-২৯০ টাকা দরে। একই কাউন্টের সুতা ১৫ দিন আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ২৮০-২৮৫ টাকায়। দাম কমছে ৫-১০ টাকা।

৮০ কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ৩৫০-৩৭০ টাকা দরে। ১০-১২ দিন আগেও একই কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হয়েছিল ৩৩০-৩৩৫ টাকা দরে। দাম বেড়েছে ১৫-২০ টাকা।

সুতা ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সুতা উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল তুলার দাম

অনেকে বেড়ে গিয়েছে। বাজারে সুতার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইচ্ছেমতো দর নির্ধারণ করছেন দেশের স্পিনিং মিল মালিকরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইয়ার্ন মাচেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কনটেইনার চার্জ দ্বিগুণ। বিশ্ববাজারে তুলা নিয়ে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে সুতার বাজারদর প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, স্পিনিং মিলের মালিকরা সুতা নিয়ে একচেটিয়া ব্যবসা করছেন। সুতার দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে তাঁতিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ সুতার দামের সঙ্গে সমন্বয় করে কাপড়ের দাম বাড়েনি।