দুই খালাতো বোনের মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপ, ভাইবোনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৬-০১ ১৮:১৭:০৮


চট্টগ্রামে  দুই খালাতো বোনের মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায়  ভাইবোনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার জেলার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নারগিস আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। বাদী পক্ষের ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের জবানবন্দি শুনে বুধবার দুই ভাইবোনকে দোষী সাব্যস্ত করে এক যুগ আগের এ মামলার রায় দেন বিচারক।

দণ্ডিতরা হলেন- ফারজানা লতিফ সাকি (৩৫) ও ইফতেখার লতিফ সাদি (৩৩)। রায়ের সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে আদালতের অতিরিক্ত পিপি তসলিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুই আসামিকেই ২০০২ সালের অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫(ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়া ৫(খ) ধারায় তাদের ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুই ধারায় সাজা একযোগে কার্যকর হবে বলে তাদের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন সাজাই প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি সাকিকে ৫০ হাজার টাকা এবং সাদিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আসামিদের আইনজীবী শম্ভু প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। ২২-২৩ বছরের একজন মেয়ে নিজের খালাতো বোনদের অ্যাসিড মারবে আবার পরে নিজের মুখে অ্যাসিড মাখবে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। যারা সাক্ষী দিয়েছেন তারা কেউ প্রত্যক্ষদর্শী নন। আশা করি উচ্চ আদালতে কাঙ্ক্ষিত বিচার পাব।

এই মামলা সুত্রে জানা গেছে, সাকিদের বাসা চট্টগ্রাম নগরীর বাদুরতলায়। ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি শহরের জয়নগরে খালার বাসায় বেড়াতে যান। ১০ অক্টোবর তার খালাতো বোন কারিনার বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছিল। সেজন্য আত্মীয়দের দাওয়াত দিতে ১ অক্টোবর সকালে কারিনার বাবা আনোয়ারুল কবির ও মা আনার কলি চকরিয়ার গ্রামের বাড়িতে যান।

কারিনার মা আনার কলি বলেন, আমার মেয়ে সাকির ছোট। তার বিয়ে আগে ঠিক হয়েছে, তা নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার দুই মেয়েকে অ্যাসিড মেরে ঝলসে দেয় সাকি। সাদি ওই অ্যাসিড এনে দিয়েছিল। কারিনার বাবা আনোয়ারুল কবীর ওই ঘটনায় মামলা করেন।

মামলায় বলা হয়েছে, ২ অক্টোবর ভোরে দুই খালাতো বোন কারিনা ও তাসনিমের মুখে অ্যাসিড ছোড়ার পর বাথরুমে গিয়ে সাকি নিজের মুখেও অ্যাসিড মাখেন, যাতে অন্য কেউ হামলা করেছে বলে সাজানো যায়। আগের রাতে কারিনা ও তাসনিমের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন সাকি।

মামলা হওয়ার পর তখনকার কলেজছাত্রী সাকি ও তার ভাই সাদিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাদের বিচার শুরু হয়।

সানবিডি/এনজে