আদালতের রায়ে জোড়া লাগলো ৪৫ দম্পতির সংসার

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২২-০৬-০৮ ১৭:২১:৫৬


যৌতুক, নির্যাতনসহ পারিবারিক নানা ঝামেলায় স্বামীদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের আদালতে পৃথক মামলা করেছিলেন ৪৫ জন নারী। দীর্ঘদিন এসব মামলার রায় ঝুলে ছিল আদালতে।

অবশেষে বুধবার (৮ জুন) দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল করে দিয়েছেন আদালতের বিচারক। এরপর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে নারীরা ফিরেছেন তাদের স্বামীর ঘরে।

জানা গেছে, আজ বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন পৃথক এই ৪৫ মামলার রায় দেন। এতে ৪৫টি পরিবার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেল। আদালত কোনো আসামিকে কারাগারে না পাঠিয়ে, সংসারজীবন চালিয়ে যাওয়ার শর্তে বাদীদের সঙ্গে আপস করিয়ে দেন। পরে স্বামীরা স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ফেরেন। আদালতের কর্মচারীরা তখন তাদের ফুল দিয়ে শুভকামনা জানান। ব্যতিক্রমী এই রায়ে মামলার বাদী-বিবাদী সবাই খুশি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, যৌতুকসহ পারিবারিক নানান ঝামেলায় নির্যাতনের শিকার হয়ে সংসার থেকে বিতাড়িত হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার ৪৫ নারী তাদের স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে মামলার শুনানি করে বিচারক উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে তাদের সন্তানদের এবং মঙ্গলের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন ধরে রাখার ব্যবস্থা করেন। এরপর একসঙ্গে আজ এসব মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সব মামলার বাদী-বিবাদী, তাদের আইনজীবী ও পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, বিচারক পৃথক ৪৫টি নারী-শিশু নির্যাতন দমন মামলা একসঙ্গে আপোস নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। এসব মামলা ছিল পারিবারিক বিরোধের মামলা। এতে ৪৫টি পরিবারের স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসবাস করার সুযোগ পাবেন। এর আগেও বিচারক তিনবার অনেকগুলো মামলা আপস নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। এতে ৪৫টি পরিবারে শান্তি ফিরবে ও আদালতে মামলাজটও কমবে।

এএ