তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর হার কমানোর আহবান
নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২২-০৬-১৩ ১৪:২০:৪৭
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেছেন, পু্ঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর হার কমানো উচিত।
তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং অতালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর হার একই রকম হলে অনেকেই পুঁজিবাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
সোমবার (১৩ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃক আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে কর সীমা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ করতে ডিএসই ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিকুল আমিন ভূঁইয়া আহবান জানান।
ডিএসই চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ০৯ জুন “কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন” শিরোনামে সরকারের অতীতের অর্জন এবং উদ্ভুত বর্তমান পরিস্থিতির সমন্বয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন, তার জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছে। এ বাজেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের চতুর্থ বাজেট।
এবারের বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রন, কৃষি খাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা খাতসহ বেশ কিছু খাতকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে বহুল কাঙ্খিত পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক সম্ভবানাও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যা দেশের সামগ্রীক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই বহিঃপ্রকাশ।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপনের পর পরই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা করা হয়। ডিএসই মনে করে যে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি, উন্নয়ন ও উৎপাদনমূখী কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করার কৌশল নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়ণ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে উন্নয়ন ও উৎপাদনমূখী যে সু-পরিকল্পিত কর্মপন্থা, ব্যবসাবান্ধব ও ব্যবস্থাপনা কৌশল বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে, সে জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বাজেট প্রস্তাবনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।
পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিকাশে সরকারের নীতি সহায়তা ও বাজার বান্ধব আইন প্রণয়নের ফলে দেশের পুঁজিবাজার এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের অধিক শেয়ার আইপিও’র মাধ্যমে হস্তান্তরিত হলে সেই তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার ২২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০
শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের বৃহত কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হবে। এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে অন্য সব খাতের মত অর্থনীতির চালিকাশক্তি দেশের পুঁজিবাজারও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পুঁজিবাজারকে আরো বিকশিত ও গতিশীল করতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নিম্নোক্ত প্রণোদনা সমূহ সদয় বিবেচনার দাবি জানায়ঃ
১) বন্ডবাজার সম্প্রসারণঃ একটি স্বতন্ত্র বন্ড মার্কেট তৈরীর জন্য রেগুলেটরী এবং টেকনোলজিক্যাল কাঠামো সম্পূর্ণরূপে তৈরী করা হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে কর্পোরেট বন্ড মার্কেটের আকার খুবই ছোট। আমরা মনে করি একটি সময়োপযোগী নীতি সহায়তার মাধ্যমে কার্যকর বন্ড মার্কেট তৈরী করা গেলে দেশের পুঁজিবাজার তথা সমগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে। সে জন্য জিরো কূপন বন্ডের মতো সকল প্রকার কর্পোরেট বন্ডের উদ্ভূত সুদ বিনিয়োগকারী নির্বিশেষে কর মুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি।
২) কর্পোরেট করহার হ্রাসকরণঃ প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ শতাংশের অধিক শেয়ার আইপিও’র মাধ্যমে হস্তান্তর হলে ঐ তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার ২২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। পুঁজিবাজারের টেকসই সম্প্রসারণের জন্য তালিকাভুক্ত এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান নূন্যতম ১০% করার প্রস্তাব করছি।
৩) তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের করমুক্ত সীমাবৃদ্ধিকরণ: পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ৫০,০০০ থেকে নূন্যতম ১০০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করছি। পাশাপাশি লভ্যাংশ থেকে উৎসে কর চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানাচ্ছি।
৪) এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হ্রাসকরণঃ ২০২১ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এসএমই বোর্ড নামে একটি পৃথক বোর্ড চালু করে। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী মূলধন যোগান ও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স উন্নতকরণ। এই বোর্ডে কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করার জন্য নূন্যতম ৫ বছরের জন্য হ্রাসকৃত ১০% হারে কর ধার্য্য করার দাবি
জানাচ্ছি।
৫) প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের উপর কর হ্রাস: কোম্পানিগুলো কর পরবর্তী মুনাফা থেকে লভ্যাংশ প্রদান করে। লভ্যাংশ আয়ের উপর কর প্রকৃতপক্ষে দ্বৈত কর। এজন্য কর্পোরেট শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ আয়ের উপর কর ২০% থেকে হ্রাস করে ১০% করার প্রস্তাব করছি। একই সাথে কর্পোরেট করদাতাদের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ আয়ের উপর চূড়ান্ত করহার ১০% করার দাবি করছি।
৬) স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেকহোল্ডারদের উৎসে কর হ্রাস: পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ব্রোকারেজ হাউজকে ন্যায়সগত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে বিদ্যমান অযৌক্তিক করনীতি থেকে অবমুক্তি দিয়ে সিকিউরিটিজ লেনদেনের উপর প্রদত্ত অগ্রিম আয়কর ০.০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.০১৫ শতাংশ (পূর্বে এটি ০.০১২৫ শতাংশ ছিল) করতে অথবা আয়কর অধ্যাদেশ মোতাবেক নিয়মিত হারে আয়কর
প্রদানের আদেশ জারী ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
দীর্ঘমেয়াদী মূলধন সংগ্রহের অন্যতম মাধ্যম হলো দেশের পুঁজিবাজার। তাই “কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন” শীর্ষক প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের পুঁজিবাজারই সরকারের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে ডিএসই মনে করে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ডিএসই পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান ও শরীফ আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন
Sunbd News–ক্যাপিটাল নিউজ–ক্যাপিটাল ভিউজ–স্টক নিউজ–শেয়ারবাজারের খবরা-খবর
সানবিডি/এসএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













