যার কাছে স্ত্রীকে রেখে মালয়েশিয়া গেলেন, তিনি যা করলেন….
প্রকাশ: ২০১৬-০৩-০২ ১৪:৩৪:০৩
চট্টগ্রাম- চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার এয়াকুব নগর এলাকায় এক নারীসহ দুজন খুন হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনায় নিহতরা হলেন মাকসুদুর রহমান (৩৫) ও আসমা বেগম (২৫)। মাকসুদুর সম্পর্কে আসমার খালু শ্বশুর ।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মালয়েশিয়া প্রবাসী হৃদয়ের সঙ্গে কয়েক বছর আগে আসমার বিয়ে হয়। তারপর মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন। মাকসুদুর এয়াকুব নগরের আলিম দোভাষ কলোনির রুহুল আমিনের ছেলে। আসমাও একই এলাকার বাসিন্দা।
কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়া যাওয়ার কিছু দিন পর থেকেই শুনে আসছিলেন স্ত্রীর সঙ্গে খালুর প্রেম চলছে। অথচ এই খালুই তাকে লালনপালন করেছে। সেই বিশ্বাসেই বিয়ের পর স্ত্রীকে খালার বাড়িতে রেখে যান তিনি। কিন্তু এই ঘটনা শুনে আর স্থীর থাকতে পারেননি। দেশে ফিরে দু’জনকেই খুন করলেন।
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার ফিরিঙ্গিবাজার এয়াকুব নগরে দুই নারী-পুরুষ খুনের নেপথ্যে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্যই পেয়েছে পুলিশ।
ইয়াকুব নগরের আলিম দোভাষ গলির টিনশেড একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন হৃদয় ও তার স্ত্রী আছমা আক্তার (২৫)। পাশেই আরেকটি বাসায় হৃদয়ের খালা রীনা বেগম ও মাকসুদুর রহমান (৩৫) ভাড়া থাকতেন। সেখানে একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকান চালাতেন মাসুদ।
মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী আছমা ও খালু মাকসুদুরকে হত্যা করেন হৃদয়। মাকসুদুর দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
হৃদয়ের মেজখালা রুবি বেগম জানান, অনেক ছোট বয়সে হৃদয়ের মা মারা যান। এরপর থেকেই সে রীনা ও মাকসুদুরের কাছেই বড় হয়। এরপর হৃদয়ের বিয়ে দেন তারা সবাই মিলে। বিয়ের খালারা মিলে তাকে মালয়েশিয়া পাঠান। যাওয়ার আগে হৃদয় স্ত্রীকে রেখে যান রীনা ও মাকসুদুরের কাছে।
হৃদয়ের চলে যাওয়ার পর থেকেই মাকসুদুর আর আছমা পরকীয়া প্রেম শুরু হয়। সে কথা মালয়েশিয়া থেকে জানতে পারেন হৃদয়। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে নানা দেনদরবার হয়েছে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। হৃদয় দেশে ফিরে আসার পরও থামেনি সেই পরকীয়া। সেই ক্ষোভ থেকেই দু’জনকে হত্যা করেছেন হৃদয়।
আছমা ও হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের বুড়িচং থানায়। চার বছর প্রেম করে বিয়ে করেছেন তারা। আর মাসুদুরের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার কমলগঞ্জ থানায়।
তবে রুবির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন নিহত মাকসুদুরের স্ত্রী রীনা। তার দাবি, তার স্বামী এর আগে কোরান শরিফ ছুঁয়ে বলেছেন যে তিনি হৃদয়ের স্ত্রীর সঙ্গে কখনোই সম্পর্কে জড়াননি।
তিনি আরো বলেন, ‘সন্ধ্যায় বাসায় ছেলে মেয়েদের প্রাইভেট টিচার এসেছিলো, তাই বাসায় ব্যস্ত ছিলাম। সাড়ে আটটার দিকে মানুষের চিৎকার শুনে দোকানে গিয়ে দেখি, আমার স্বামীর পেটে ছুড়িকাঘাত করা হয়েছে। এসময় তিনি আমাকে বলেন “রীনা আমিতো শেষ। হৃদয় আমারে ছুরি মেরে দিছে।” এসময় তার নাঁড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে যাচ্ছিল।’
কোতয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জেনেছি- খালু-ভাগনির মধ্যে পরকীয়ার জেরে ভাগনি আছমা আক্তারের স্বামী হৃদয় এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর মধ্যে আছমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে ও মাকসুদুর রহমানকে পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। এসময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক পঙ্কজ বড়ুয়া সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, রাত পৌনে ৯টার দিকে দুজনকে আনা হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার দক্ষিণ মিজানুর রহমান খান বলেন, মাকসুদুরের এক ছেলে হৃদয়কে জানায় তার বাবার সাথে আসমার (হৃদয়ের স্ত্রী) অবৈধ সম্পর্ক আছে। এ কথা শুনেই ঘরে গিয়ে আসমাকে গলা টিপে খুন করে হৃদয় । এরপর ঘর থেকে বেরিয়ে হৃদয় বাসার কাছেই একটি চায়ের দোকানে যায়, সেখানে মাকসুদুর বসে ছিলেন। মাকসুদুরকে ছুরিকাঘাত করেই হৃদয় পালিয়ে যায়।
নিহতদের সুরতহাল রিপোর্টকারী কোতোয়ালী থানার এসআই মনিুরজ্জামান জানান, হৃদয় স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা করেছেন। তার গলায় দাগ পাওয়া গেছে। আর মাকসুদুরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে হত্যার ধরন বিস্তারিত জানা যাবে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













