‘বন্যা দূর্গতদের দিকে না তাকিয়ে সরকার পদ্মা সেতুর উৎসব নিয়ে ব্যস্ত’
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৬-১৮ ১৫:৪৪:৪১
বন্যা দূর্গত মানুষের দিকে না তাকিয়ে সরকার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী উৎসবে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এই দুঃসময়ে এই দুযোর্গের সময়ে জনগণের কষ্টের সময়ে সরকার ব্যস্ত হয়ে আছে উৎসব নিয়ে। তারা পদ্মা ব্রিজের উদ্বোধন নিয়ে এতো ব্যস্ত যে, তারা মানুষের কল্যাণের দিকে তাকানোর কোনো সময় নেই, মানুষের কষ্টের দিকে তাকানোর সময় নেই।
শনিবার (১৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর ভাটেরায় ঢাকা উত্তরের কয়েকটি ওয়ার্ড সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।
আমরা দাবি করছি বন্যা কবলিত অঞ্চলগুলোকে দূর্গত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হোক এবং এই সমস্ত অঞ্চলের জনগণের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হোক কোনো বিলম্ব না করে। আমরা অবিলম্বে সরকারকে বন্যা কবলিত এলাকাগুলো গিয়ে দূর্গত মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করে এবং বন্যা যেন না হয় তার ব্যবস্থা করা জন্য আহবান জানাচ্ছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে আজকে বন্যার ধারালো ছোবল। সিলেট, সুনামগঞ্জ থেকে শুরু করে উত্তরে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ সমস্ত অঞ্চল বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। গতকালের যে নিউজ সেই নিউজ হচ্ছে ফারাক্কার সকল বাঁধ খুলে দেয়া হয়েছে এবং ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা সব নদীর পানি এখন বাড়তে থাকবে। এদেশের মানুষকে ভাসিয়ে দেবে, তাদের বহুদিনের যে কষ্ট করা যে ফসল সেই ফলসকে নষ্ট করবে, তাদের বাড়ি-ঘর নষ্ট করবে, তাদের গোবাদি পশু নষ্ট করবে, তাদের সমস্ত সম্পদ ভাসিয়ে নিয়ে চলে যাবে।
বন্যা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল বলেন, কেনো এই বন্যা? ক্লাইমেট চেইঞ্জ হচ্ছে সে জন্য বন্যা আসতে পারে। কিন্তু সেই বন্যাকে মোকাবিলার জন্য বা সেই বন্যায় যাতে কম ক্ষতি হয় সেটা দেখার দায়িত্ব সরকারের। তারা গত এক যুগেও ভারতের সঙ্গে যেসব অভিন্ন নদী রয়েছে, সেই অভিন্ন নদীগুলোর পানিবন্টনের যে চুক্তি সেই চুক্তি করতে সক্ষম হয় নাই।
আমাদেরকে বহুদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি চুক্তির মূলা দেখানো হচ্ছে। কিন্তু তা আজ পর্যন্ত করা হয় নাই। ফারাক্কার পানি হঠাৎ করেই যে তারা (ভারত) গেইট খুলে দেয় তখন যে পানির ঢল আসে সেই ঢল সামলানো সম্ভব হয় না। আজকে সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলে একই ঘটনাগুলো ঘটছে। আজকে এটার জন্য সম্পূর্ণভাবে এই সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতি এবং তার জনগণের প্রতি যে অবহেলা সেটাই প্রমাণ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বন্যা হবে না কেনো? যে সমস্ত হাওর ও নদীগুলো বাঁধ এবং ব্রিজ দেয়া হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। সেখানে এতো দুর্নীতি হয়েছে যে, সমস্ত বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে এবং নতুন করে যেসব রাস্তা তৈরি করা হয়েছে তা ভেঙে যাচ্ছে। সব কিছু সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আজকে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে আমাদের দেশে।
অনুষ্ঠানে মহানগর উত্তর বিএনপির আবদুল আলিম নকি, আতিকুল ইসলাম মতিন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এজিএম শামসুল হক, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, মোস্তফা জামাল, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, আখতার হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন মতি প্রমূখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














