হঠাৎ বন্যায় মহাসংকটে অর্ধকোটি মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৬-১৯ ১০:১৩:৫৭
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সিলেট আর সুনামগঞ্জ এখন এক অচেনা নগর, অচেনা শহর। বিদ্যুৎ নেই, রাত নামলেই ঘুটঘুটে আঁধার চারদিক। চারপাশে পানি খেলা করলেও নেই বিশুদ্ধ খাবার পানি। চলছে খাবারের মহাসংকট। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। বানের পানিতে সিলেট অঞ্চলের অন্তত অর্ধকোটি মানুষ বন্দি। উপদ্রুত অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী। তবে বিপন্ন মানুষের জন্য সরকারের ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল। সহায়সম্বল সব হারিয়ে বহু মানুষের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। চিকিৎসাসেবায় ঘটেছে বিঘ্ন। সবচেয়ে দুর্বিপাকে সুনামগঞ্জ। পুরো জেলা ডুবে থাকায় প্রকৃত খবর জানার মাধ্যমগুলো স্তিমিত হয়ে আসছে। মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ তাদের দুর্ভোগের কথা জানাতে পারছে না কাউকে। এতে দেশের অন্য প্রান্ত ও বিদেশে থাকা স্বজনরা সময় কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠায়। সরকারের জরুরি পরিষেবাও অনেকটা অচল। কয়েকটি স্থানে ইউএনও, ওসিসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূূর্ণ ব্যক্তিদের ফোনও কাজ করছে না।
বন্ধ হয়ে গেছে ট্রেন ও বাস চলাচল। উড়ছে না উড়োজাহাজও। একমাত্র সম্বল নৌকা ভাড়া হয়েছে ১০ থেকে ২০ গুণ।
সুনামগঞ্জে বন্ধ হয়ে গেছে ব্যাংকিং সেবা। সিলেটেও তা বন্ধ হওয়ার পথে। মানুষ সিলেট ও সুনামগঞ্জ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় সেটাও এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি স্থানে মাঝারি থেকে ভারি, কোথাও অতিভারি বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ দেশের বড় নদীগুলোতে পানি বাড়তে পারে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে যেতে পারে।
এদিকে ঢাকায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ভাষ্য, আগামীকাল সোমবার থেকে সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চলে আরও তিন থেকে চার দিন পানি বাড়তে থাকবে।
সিলেট বিভাগের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এর আগে প্লাবিত এলাকায়ও বন্যার পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সুরমা নদীর পর কুশিয়ারা নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জসহ আশপাশ এলাকায় নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট বিভাগের চার জেলায় ভয়াবহ বন্যায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের অনেক উপজেলায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর পর নৌ ও বিমানবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া কোস্টগার্ডকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতার জন্য।
সানবিডি/এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













