কিশোরগঞ্জে নতুন করে বন্যায় ৪০ গ্রাম প্লাবিত
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৬-২২ ১৮:১০:৫৯
গত ৪২ ঘন্টায় কিশোরগঞ্জ জেলার সবকটি নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে আরও দুইটি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে এ জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে জানা গেছে, বুধবার জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৬৪টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে জেলার ইটনা, অষ্টগ্রাম, তাড়াইল, নিকলী, ইটনা, মিঠামইন অষ্টগ্রাাম, করিমগঞ্জ, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর ভৈরব উপজেলার মানুষ। কিশোরগঞ্জ সদরের কর্ষাকড়িয়াই ও দানাপাটুলি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামও বুধবার প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইটনার ৯টি ইউনিয়নই পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া অষ্টগ্রামের ৮টি, মিঠামইনের ৭টি, করিমগঞ্জের নতুন করে তিনটিসহ ১১টি, নিকলীর ৭টি, কটিয়াদীর ৪টি, বাজিতপুরের ৮টি, কুলিযারচর ২টি, কিশোরগঞ্জ সদর ২টি ও ভৈরবের ৫টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে আরও ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় সারা জেলায় ৭৪০ গ্রামের কয়েক হাজার বাড়িঘরে পানি উঠেছে। এ জেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৩ জন। তাদের ঘরে খাবার নেই। এদের মধ্যে মাত্র ১৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার রাত ১০ টায় কিশোরগঞ্জের সার্কিট হাউজে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমানের সাথে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলায় ত্রাণ তৎপরতা সঠিকভাবে চলমান উল্লেখ করে বক্তারা জানান, জেলার ৭৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ৭৪৪টি পুকুর তলিয়ে গিয়ে পাঁচ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। ৬৮৪ জন মৎস্যচাষি পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ৪৫০ একর পুকুর বন্যার পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ৫০০ মেট্রিক টন মাছও চলে গেছে বন্যার পানিতে। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাড়িঘর ছেড়ে অনেক পরিবার নৌকা ও উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবিত বসতবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নদ-নদীতে প্রবল বেগে পানি এখনো বাড়ছে। এ অবস্থায় মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছে। বন্যার তীব্রতার কারণে জেলার ১৯১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা প্লাবিত গ্রামে চাল বরাদ্দ করে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বন্যায় ৭৪০ গ্রামের এক হাজার ৯০৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ৬৬টি ইউনিয়নে মোট ১৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ১৫ হাজার ৮৮৪ জন মানুষ। এছাড়া ২ হাজার ২১৩টি গবাদি পশুকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে।
সানবিডি/এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













