পদ্মা সেতু উদ্বোধন
ইতিহাসের সাক্ষী হতে সভাস্থলে জনতার ঢল
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৬-২৫ ০৯:১৩:৪৬
১৭ কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে সমাবেশস্থলে ভোর থেকে দলে দলে মানুষ জড়ো হচ্ছেন। ওই অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার মানুষ জনসভার আয়োজন দেখতে পদ্মাপারে ভিড় করছেন। পরিবারসহ এসেছেন অনেকে। সব বয়সি মানুষের উপস্থিতি রয়েছে সেখানে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক বলেছেন, সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে তাঁরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। তিনি আশা করছেন বিশাল সমাবেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ যোগ দেবেন।
শনিবার (২৫ জুন) ভোর পৌনে ৬ টায় থেকেই জনসভাস্থল মানুষের পদচারণায় মুখরিত হতে শুরু করে।
একটু পরেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদারীপুরের শিবচরে বাংলাবাজার ঘাটে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেবেন। জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দিবেন তিনি। উদ্বোধনে সাক্ষী হতে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের মানুষ।
জনসভায় বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশ করছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। নানা স্লোগানে মুখরিত জনসভাস্থল। পদ্মার কূল ঘেঁষে আয়োজিত এ জনসভায় এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন।
তথ্যমতে, বাংলাদেশের বুকে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোর নাম পদ্মা সেতু। ছয় দশমিক পাঁচ কিলোমিটারের সেতুটি ঢাকা বিভাগের দুই জেলা মুন্সীগঞ্জ আর শরিয়তপুরকে সংযুক্ত করেছে। সেতুর ডাঙার অংশ যোগ করলে মোট দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার। স্টিল আর কংক্রিটের তৈরি দ্বিতল সেতুর ওপরের স্তরে রয়েছে চার লেনের সড়ক আর নিচে একক রেল পথ। উদ্বোধনের দিন থেকেই সেতুতে দৈনিক ১২ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
পদ্মা সেতুর পিলার সংখ্যা ৪২ আর স্প্যান ৪১টি। খুটির নিচে সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীরে স্টিলের পাইল বসানো হয়। অর্থাৎ প্রায় ৪০ তলা ভবনের উচ্চতার গভীরে পাইল নিয়ে যেতে হয়।
পদ্মা সেতুর পাথর ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে আমদানি করা, যার একেকটির ওজন একটন। সেতুকে ভূমিকম্প থেকে রক্ষা করতে ফিকশন পেন্ডুলাম বেয়ারিং লাগানো হয়েছে; যা রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকতে পারবে।
সেতুর পাইলিং ও খুঁটির অংশে অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা অতিমিহি সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়। নদী শাসনে চীনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়।
পদ্মা সেতুতে রয়েছে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা। সাধারণ আলোক সুবিধার পাশাপাশি সেতুতে রয়েছে আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্য বর্ধনে রয়েছে আর্কিটেকচার লাইটিং। ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচে নির্মিত পদ্মা সেতু রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সংযোগ স্থাপন করেছে।
ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতু বুঝিয়ে দিয়েছে।
এম জে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














