অর্থবছরের প্রথম ১১ মাস

৫০ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে বাংলাদেশের রফতানি

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২২-০৬-২৮ ০৯:২৩:২০ || আপডেট: ২০২২-০৬-২৮ ০৯:২৩:২০

দেশ থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই (জুলাই-মে) পণ্য রফতানি হয়েছে ৪৭ বিলিয়ন (৪ হাজার ৭০০ কোটি) ডলারেরও বেশি মূল্যের। অর্থবছর শেষ হতে বাকি আর মাত্র দুদিন। চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে শুধু পোশাক রফতানিই হয়েছে ৩২০ কোটি ডলারের। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৫০ বিলিয়ন (৫ হাজার কোটি) ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের রফতানি।

এ বিষয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল রফতানিকারকদের হিসাবে না নিলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ ৫০ রফতানিকারক দেশের একটি। এশিয়ায় এ অবস্থান দাঁড়ায় শীর্ষ ২০-এর মধ্যে। এদিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় এখন ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে ৪ হাজার ৭১৭ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য, যার মধ্যে তৈরি পোশাক পণ্য রফতানির অর্থমূল্য ছিল ৩ হাজার ৮৫২ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এ হিসেবে রফতানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৮২ শতাংশই তৈরি পোশাক। খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারক সংগঠন বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে পোশাক রফতানি হয়েছে ৩২০ কোটি ডলারের। এ পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে এরই মধ্যে চলতি অর্থবছরের মোট রফতানি ৫ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। সার্বিক পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে এ অংক আরো বাড়বে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

রফতানি ৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অর্জনকে বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে এ অগ্রযাত্রা টেকসই করতে সরকার ও ব্যক্তি খাতকে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করে যেতে হবে বলে মত দিয়েছেন তারা। খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের বছরেই দেশের রফতানি প্রথমবারের মতো ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর বিষয়টি একটি প্রতীকী ঘটনা, যা উদীয়মান রফতানি কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে বিশেষ বার্তা বহন করছে।

রফতানি বাড়াতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি বলেন, পণ্য রফতানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, অর্থবছর শেষে মোট রফতানি আরো বেশি হবে। আগামী দুই বছরে বাংলাদেশের রফতানি ৮০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এ অর্জনে সব রফতানিকারক ও শ্রমিক ধন্যবাদ প্রাপ্য। বাংলাদেশ এখন একটি শক্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অনেক বেশি। বাংলাদেশ আজ পাকিস্তান থেকে সব সূচকে এগিয়ে আছে, এমনকি ভারতের সঙ্গে প্রায় সাতটি সূচকে এগিয়ে। আমাদের সামনে উজ্জ্বল সম্ভাবনা। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

সানবিডি/এনজে