এলএনজির চড়া দাম, সাময়িক আমদানি না করার সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৭-০২ ১১:৪৭:৪২
বৈশ্বিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম এখন ৪০ ডলার ছুঁইছুঁই। দুই সপ্তাহ ধরে আবারো ঊর্ধ্বমুখী ধারায় জ্বালানি পণ্যটির দাম। তবে শুধু পণ্যটির উচ্চমূল্যই নয়, স্পট থেকে এলএনজি কিনতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তারও সংস্থান করতে পারছে না পেট্রোবাংলা। এ পরিস্থিতিতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছে জ্বালানি বিভাগ। জ্বালানি পণ্যটির দাম না কমা পর্যন্ত দেশীয় উৎস থেকেই চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অস্বাভাবিক হারে এলএনজির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আগস্ট থেকে স্পট মার্কেটের এলএনজি আমদানি না করার সাময়িক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ অবস্থায় জাতীয় গ্রিডে যে পরিমাণ গ্যাস ঘাটতি হবে তা দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে জোগান দেয়ার চেষ্টা করা হবে। এজন্য বেশ কয়েকটি কূপে ওয়ার্কওভার করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
স্পট মার্কেট থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম কার্গো আমদানি করে বাংলাদেশ। সেই সময় প্রতি এমএমবিটিইউ ৪-৫ ডলার দামে কেনা হয়। সে সময় এক কার্গো এলএনজি কিনতে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা খরচ হতো। কিন্তু বৈশ্বিকভাবে এলএনজির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে এক কার্গো এলএনজি কিনতে তিন-চার গুণ বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। স্পট মার্কেটে জ্বালানি পণ্যটির দামের অস্থিতিশীলতা প্রভাব ফেলেছে পেট্রোবাংলার ওপরও। পণ্যটি কিনতে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান করতে পারছে না সংস্থাটি। এক বছর ধরে এলএনজির দাম পরিশোধে অর্থ বিভাগের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে সংস্থাটি। চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বিভাগ টাকাও দিতে পারছে না পেট্রোবাংলাকে। সর্বশেষ গত মে মাসে অর্থ বিভাগ গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) থেকে এলএনজি কেনার জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পেট্রোবাংলাকে। শর্ত সাপেক্ষে পেট্রোবাংলাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ অর্থ দেয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এলএলজির দামে যে অস্থিরতা তাতে স্পট থেকে পণ্যটি আমদানির সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। যতটুকু আমদানি না করলেই নয়, সেই পরিমাণ এলএনজি আমদানি করা হবে। আগামীতে বিশ্ববাজারে মূল্য হ্রাস পেলে এলএনজির আমদানি বাড়ানো যাবে। গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য স্পট থেকে যে পরিমাণ এলএনজি আমরা আমদানি করছি, সেই পরিমাণ গ্যাস দেশীয় উৎস থেকে পূরণের চেষ্টা করছি। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এরই মধ্যে ৪৬টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং কয়েকটি কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি কয়েকটি কূপ থেকে স্বল্পমেয়াদে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস অনুসন্ধানেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ২২ ডলার ৪০ সেন্ট করে। জ্বালানির বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার বাজারে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ ডলারে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়েও জ্বালানি পণ্যটি ২৩ ডলারের কাছাকাছি দামে বিক্রি হয়েছিল। বাজারের এ অস্থিতিশীলতা বজায় থাকলে জ্বালানি পণ্যটির দাম আরো বেড়ে যাবে বলে আভাস দিচ্ছে এসঅ্যান্ডপি।
সানবিডি/এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














