লেখক-পাঠক-সম্পাদকের আড্ডায় প্রাণবন্ত রাবি ক্যাম্পাস
প্রকাশ: ২০১৬-০৩-০৭ ২০:১৯:৪০
“এসো লিখিয়ে সব লেখায় লেখায় ভাঙি মগজের কারফিউ” স্লোগানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চিহ্ন’র আয়োজনে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী ‘চিহ্নমেলা বিশ্ববাঙলা’ লেখক-পাঠক-সম্পাদকের বৈশ্বিক সম্মিলন।
সকালের মিষ্টি রোদ আর মৃদুমন্দ বাতাসে উচ্ছ্বসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবন চত্বর। মেলার প্রথম দিনে সকাল ১০টায় ১৬ বছর এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বিবেচনায় ১৬টি বেলুন ও ৭টি শান্তির পায়রা উড়িয়ে চিহ্ন মেলার উদ্বোধন করেন লেখক এমিরেটাস প্রফেসর আনিসুজ্জামান ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। উদ্বোধন সহযোগী ছিলেন, কথাসাহিত্যিক হাসান আাজিজুল হক, প্রাবন্ধিক সনৎ কুমার সাহা, মাননীয় উপার্চায মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, উপ-উপার্চায চৌধুরী সারওয়ার জাহান, চিহ্নপ্রধান শহীদ ইকবাল, চিহ্নর্নিবাহী রহমান রাজু ও চিহ্নসহযোগী সৈকত আরেফিন।
উদ্বোধনের পর এক র্বণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলা প্রাঙ্গনে এসে মিলিত হয়। মেলা প্রাঙ্গনেই বেলা ১১টায় শুরু হয় কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের সঞ্চালনায় ‘বাঙালীর চোখে শ্রেষ্ঠ বাঙালী’ আড্ডা। আড্ডায় অংশ নেন দেশের ও দেশের বাইরের বাংলা ভাষাভাষী লেখক,পাঠক ও সম্পাদক। আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমেরিটাস ও লেখক আনিসুজ্জান, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও লেখক সনৎকুমার সাহা, জুলফিকার মতিন, ভারতের ইমানুল হক, কবি রুহুল আমিন প্রামানিক।
‘বাঙালির চোখে শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ শীর্ষক আড্ডায় বক্তারা বলেন, ‘কোন একটি বিষয়কে মানদন্ড ধরে একাধিক মানুষের শ্রেষ্ঠত্বকে বিচার করা যায় না। যারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তারা প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন কৃতিত্বের জন্য আজ শ্রেষ্ঠ। অনেকের মধ্যে একজনকে শ্রেষ্ঠ বলার মধ্যে আধিপত্যের ধারণা চলে আসে। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ড. মো. শহীদুল্লাহ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রত্যেকেই তাদের নিজ কৃতকর্মের দ্বারা আজ শ্রেষ্ঠ বাঙালি।’
আড্ডায় বক্তারা আরও বলেন, রাজা রামমোহন রায়ের সতীদাহ প্রথা বিলোপ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ প্রচলন, ড. মো. শহীদুল্লাহর ভাষা সহিত্যের অবদান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও সাংস্কৃতির অবদান, শেখ মুজিবুর রহমানের দেশ স্বাধীনের ভূমিকাসহ সকলের সমাজ সংস্কারের কথা বলেন। তারা বলেন, এরা প্রত্যেকেই মাটি ঘেঁষা মানুষ, প্রত্যেকেই তার কর্মের দ্বারা শ্রেষ্ঠ বাঙালি।
কথা হয় চিহ্ন’র কর্মী নাজমা পারভীন এর সাথে। তিনি বলেন, গতকালের বৈরী অবহাওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টিতে আমরা শঙ্কিত ছিলাম। আমরা সকলেই অনিশ্চতায় পড়ে যাই। তারপরও চিহ্নে’র সকল সংগঠক আর কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আমরা মেলার প্রাঙ্গন গুঁছিয়ে তুলতে সক্ষম হই। সবশেষে আজ মেলায় পাঠক, লেখক, সম্পাদকদের মিলনমেলার প্রাণবন্ত পরিবেশ দেখে অনেক ভালো লাগছে।
মেলা প্রাঙ্গনে কলকাতার ‘বিকল্প বির্নিমাণ’ ছোট কাগজের সম্পাদক অভিজিৎ বিশ্বাসের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, এই ধরনের আয়োজন সত্যিই অসাধারণ। প্রথমবারের মতো এই মেলায় অংশগ্রহণ করছে আমাদের লেখক ও সম্পাদক। এখানে আসতে পেরে বিভিন্ন ছোট কাগজের লেখক সম্পাদকের সাথে একাত্ম হতে পারছি। এবং উদ্যেক্তাদের আন্তরিকতা অনেক বেশি।
মেলায় ‘হেরিটেজ’ বাংলাদেশের ইতিহাসের আরকাইভস এর স্টলের প্রতিনিধি রাছিবুল নাহিদের সাথে। তিনি বলেন,অসম্ভব ভালো লাগছে। ছোট কাগজের লেখক- সম্পাদকদের নিয়ে এমন মেলার আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। এই ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা তাদের চিন্তা চেতনা ফুটিয়ে তুলতে পারবে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাঠকরা তাদের মেধা, মনন ও প্রতিভা বিকাশের জায়গা খুঁজে পাবে।
মেলার স্টেজের পাশে কথা হয় চিহ্নপ্রধান অধ্যাপক শহীদ ইকবালের সাথে। প্রথম দিনে মেলার আয়োজন কতটুকু সফল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনারা দেখতেই পারছেন কতটুকু সফল হয়েছে। আর এখন ‘বাঙালীর চোখে শ্রেষ্ঠ বাঙালী’ আড্ডা হচ্ছে। সেখানে লেখক-পাঠক-সম্পাদকেরা উপস্থিত আছেন।
‘চিহ্নমেলা বিশ্ববাঙলা’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে ‘বাঙালির চোখে শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ শীর্ষক আড্ডা ছাড়াও ছিল ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে ‘মার্চের কবিতা’, লেখক-পাঠক-সম্পাদক শীর্ষক ‘আড্ডা’, কবি কণ্ঠে কবিতাপাঠ ও বাউল গান এবং ভাওয়াইয়া গান আড্ডা।
ছোট কাগজের এ মেলায় সোম ও মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা বিরতিহীনভাবে চলবে প্রদর্শনী, ক্রয়-বিক্রয় ও মতবিনিময়। রাবি থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা চিহ্ন তৃতীয়বারের মতো এ মেলার আয়োজন করেছে। এর আগে দুইবার ২০১১ সালে ও ২০১৩ সালে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
সানবিডি/ঢাকা/রাআ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













