দুই সন্তান হত্যা: মুখ খুলছেন না ইতিহাসের ‘কলংকিত’ সেই মা
প্রকাশ: ২০১৬-০৩-০৯ ১৮:১৪:২৪
রামপুরার বনশ্রীতে আলোচিত ভাই-বোন নুসরাত আমান অরনী ও আলভী আমান হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে মা বেগম মাহফুজা মালেককে রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবদ করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু তিনি রিমান্ডের ৪ দিনেও কোন কারণ বলছেন না। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার চিন্তা করেই এ হত্যাকান্ড ঘটান বলে জানাচ্ছেন। বুধবার মাহফুজাকে আদালতে হাজির করে আবার রিমান্ড চাওয়া হতে পারে।
এ কারণে মনোবিজ্ঞানী এবং শিশুদের বাবা আমানউল্লাহ এবং দাদি হাসনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে তাকে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য রামপুরা থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) মোস্তাফিজুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনের আগে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের টানা জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মাহফুজা মালেক জেসমিন পুলিশকে জানান, ‘ওর (আমান উল্লাহ) মোবাইলে মাঝে মধ্যেই মিসকল আসে। প্রায় দেড় মাস আগে একদিন গভীর রাতে একটি মিসকল আসে। আমি নিজেই ওই নম্বরে ফোন করি। মোবাইলের অপর প্রান্তে এক মহিলা কণ্ঠ শুনতে পাই। এরপর কথা বলেনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তার স্বামীও কোনো উত্তর দেননি। মধ্যরাতে ওর কাছে কার ফোন আসে সেদিন থেকেই স্বামীর পরকীয়া নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয় এবং প্রতিশোধ স্পৃহা জাগে তার মনে।’ তিনি বলেন, ‘আমিই আমার ছেলেমেয়েকে মেরেছি। আমাকে ফাঁসি দিন।’
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘ওকে (স্বামী আমানউল্লাহ) ডাকেন। সব দোষ শুধু আমার?’ এরপর বলতে থাকেন, ‘প্রায় দেড় মাস ও (স্বামী) আমার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলে না। ছেলেমেয়েদের দিকেও কোনো খেয়াল নেই। সকালে বেরিয়ে ফেরে গভীর রাতে। এমনকি ২৮ ফেব্রুয়ারি বিয়ের দিনটি পর্যন্ত তার মনে ছিল না। বাসায় ফেরার পর এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। কার সঙ্গে তার সম্পর্ক?’ ওইদিনই স্বামীর পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতে সন্তান হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বলে পুলিশের সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে মাহফুজা মালেক জেসমিনকে। পুরো সময় তিনি শান্ত ছিলেন। কোনো অনুশোচনা ছিল না তার মধ্যে। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি হঠাৎ ক্ষুব্ধ হয়ে বেশ কিছু তথ্য দেন। এরপর শুক্রবার আদালত ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ডের ৪ দিনেও নতুন কোন কারণ বলছেন না মাহফুজা।
মঙ্গলবার রামপুরা থানার অপারেশন অফিসার ও তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মাহফুজা নিজেই দু’সন্তানকে হত্যা করেছেন বললেও এর পেছনে অন্য কোন কারণ থাকতে পারে। অপরাধের ধরণও তাই বলে। সেক্ষেত্রে হত্যায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। এ কথা সত্য যে, মা একা দুটি সন্তানকে হত্যা করতে পারেন, তা ভাবিয়ে তুলেছে। তবে তিনি রিমান্ডে এ ব্যাপারে মুখ খুলছেন না। মানবিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, লোভ এবং ভয় দেখিয়েও তার কাছ থেকে কোন তথ্য বের করা যাচ্ছে না। তবে তাকে অবশ্যই মুখ খুলতে হবে। এ জন্য পুনরায় রিমান্ডে নেয়া হতে পারে।’
থানার একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরের আগে থানায় আসেন মাহফুজার স্বামী আমানউল্লাহ এবং শাশুড়ি হাসনা বেগম। এরপর তাদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তাদের কাছ তেকে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আবার নিশ্চিত হয়েছেন হত্যাকাণ্ড মা একাই সংঘটিত করেছেন। কেননা, এ ঘটনার সময় একমাত্র হাসনা বেগমই বাসায় ছিলেন। এর বাইরে তারা কোন তথ্য দেয়নি যা তদন্তের কাজে আসবে। তবে তারা এতটুকু নিশ্চিত করেছেন মাহফুজাকে কখনোই মানসিক ভারসাম্য দেখেন নি। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সব কিছু বলেছেন।
আর রিমান্ডে থাকলেও মহাফুজা থানায় স্বাভাবিক দিন কাটাচ্ছেন। ঠিকমতো নাওয়া-খাওয়া এমনকি থানার অনেকের সঙ্গে কথা বলে সময় পার করার চেষ্টা করছেন। তবে কখনো সন্তান দুটির কথা বলেন না।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














