টানাবাজারে পাউন্ডে ৫-২০ টাকা কমেছে সুতার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৮-০২ ১০:৩৩:২৮


নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে সুতার দাম আরেক দফা কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব কাউন্টের সুতার দাম পাউন্ডপ্রতি ৫-২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সুতা তৈরির কাঁচামাল তুলার দামও কমেছে। ফলে স্পিনিং মিল থেকে বাজারে সুতা সরবরাহ পর্যাপ্ত।

বাজারে দেখা যায়, বাজারে ১০ কাউন্টের সুতা বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৪৫-৮৫ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে বেচাকেনা হয়েছিল ৫০-৮৫ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুতার দাম কমেছে পাউন্ডপ্রতি ৫ টাকা।

২০ কাউন্টের কোয়ালিটি সুতা প্রকারভেদে বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে পাউন্ডপ্রতি ৯০-১০০ টাকা দরে, যা ৮-১০ দিন আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ৯৫-১১০ টাকায়। সে হিসাবে বিশ কাউন্টের সুতার দাম কমেছে পাউন্ডপ্রতি ১০ টাকা।

এক্সপোর্ট কোয়ালিটির ২৪, ২৬ ও ৩০ কাউন্টের সুতা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকা দরে, যা কিছুদিন আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ১৫০-১৬৫ টাকায়। সে হিসাবে এ কাউন্টের সুতার দাম পাউন্ডপ্রতি কমেছে ১০ টাকা।

৪০ কাউন্টের সুতা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে (বাইন) ১৮০ টাকা দরে, যা আগে বেচাকেনা হয়েছিল ১৮৫ টাকায়। সে হিসাবে এ সুতার দাম কমেছে পাউন্ডপ্রতি ৫ টাকা।

৪০ কাউন্টের (টানা) সুতা বেচাকেনা হচ্ছে প্রকারভেদে ১৯০-২০০ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ২১০-২১৫ টাকায়। সে হিসাবে এ কাউন্টের সুতার দাম কমেছে ১০-১৫ টাকা।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি এ কাউন্টের সুতার দাম এখনো অনেক বেশি। এ সুতা দিয়ে তাঁতিরা শাড়ি ও লুঙ্গি প্রস্তুত করেন। এ সুতা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। কিন্তু সুতার দাম বাড়তি থাকায় তাঁতিরা কাপড় উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন না। ৫০ কাউন্টের সুতা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে প্রকারভেদে ২১০-২১৫ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ২২০-২৩০ টাকায়। সে হিসাবে ৫০ কাউন্টের সুতার দাম পাউন্ডপ্রতি কমেছে ১০ টাকা।

৬০ কাউন্টের সুতা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে প্রকারভেদে ২০৫-২৪০ টাকা দরে, যা দুই সপ্তাহ আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ২৩০-২৪৫ টাকায়। সে হিসাবে একই কাউন্টের সুতার দাম পাউন্ডপ্রতি কমেছে ২০ টাকা।

৮০ কাউন্টের সুতা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে প্রকারভেদে ২৮৫-৩২০ টাকা দরে, যা এক মাস আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ৩৩০-৩৫০ টাকায়। এ কাউন্টের সুতার দাম পাউন্ডপ্রতি কমেছে ২০-৩০ টাকা।

নারায়ণগঞ্জ ইয়ান মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশেন সভাপতি লিটন সাহা জানান, এক-দেড় মাসের ব্যবধানে সব কাউন্টের সুতার দাম পাউন্ডপ্রতি কমেছে ২০-৪০ টাকা পর্যন্ত। এক সপ্তাহ ধরে সুতার বাজার অনেকটা স্থিতিশীল। কোরবানির ঈদের পর সুতার মোকাম আবার খোলার পর বেচাকেনা হচ্ছে। তাঁতিরা কাপড় উৎপাদনের জন্য সুতা নিচ্ছেন। স্পিনিং মিলগুলো থেকেও সুতা সরবরাহ আছে পর্যাপ্ত। সুতার বাজার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক তাঁতি তাদের তাঁত বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সুতার দাম কমে আসায় অনেক তাঁতি আবার কাপড় উৎপাদন শুরু করেছেন।

এনজে