কক্সবাজারে পর্যটক হয়রানি, ২৯ দালাল আটক

জেলা প্রতিনিধি || প্রকাশ: ২০২২-০৮-০৫ ১৯:৩৫:৫৫ || আপডেট: ২০২২-০৮-০৫ ১৯:৩৫:৫৫

কক্সবাজারের কলাতলীর ডলফিন মোড়ে অভিযান চালিয়ে পর্যটক হয়রানির অভিযোগে ১৯ দালালকে আটক করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এ সময় ১৪টি ইজিবাইক জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) সকালে এ অভিযান চালায় পুলিশ।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের বেশির ভাগই রাতের বাসে এসে থাকে। অধিকাংশ পর্যটককে সকালে নামানো হয় কলাতলীর ডলফিন মোড়ে (হাঙর ভাস্কর্য মোড়)। সেখান থেকে পর্যটকেরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউসের দিকে যান। এ সময় অনেক পর্যটকই দালাল চক্রের হাতে নাজেহাল ও প্রতারণার শিকার হন।

তিনি বলেন, সকালে গাড়ি থেকে নামলেই পর্যটকদের টানাটানি শুরু করে দালাল চক্র। ২০ টাকা ভাড়ায় হোটেলকক্ষে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পর্যটকদের প্রথমে তোলা হয় টমটমে। তারপর চলন্ত অবস্থায় কম মূল্যে হোটেল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে পর্যটকদের নেওয়া হয় নির্দিষ্ট কিছু গেস্টহাউস ও হোটেলে। হোটেলকক্ষে পর্যটক পৌঁছে দিলে দালাল চক্র কক্ষভাড়ার বিপরীতে কমিশন পায় ২০০-৫০০ টাকা।

ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, পর্যটক যদি নিজের অগ্রিম বুকিং করা হোটেলে যেতে চান, সে ক্ষেত্রে ২০ টাকার ভাড়া ১০০-১৫০ টাকা আদায় করা হয়। এত টাকা দিতে না চাইলে টমটমচালক কিংবা দালাল চক্র পর্যটকদের নাজেহাল করে চালক তথা দালালরা। এ রকম নানা অভিযোগের ভিত্তিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ মাঠে নেমেছে। প্রথম দিনেই কলাতলীর একটি পয়েন্টে ১৯ দালালকে আটক ও ১৪টি টমটম জব্দ করা হয়েছে। অন্য দালালদের শনাক্ত করতে আটক দালালদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পুলিশ জানায়, শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, লিংকরোড, ডলফিন মোড়, সুগন্ধা পয়েন্ট, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে কটেজ জোন, হলিডে মোড়, ঝাউতলা, লালদীঘির পাড়ে এ রকম ১০টির বেশি দালাল চক্রের অন্তত তিন শতাধিক সদস্য তৎপর থাকে। তারা ইজিবাইক চালিয়ে কিংবা লোকসমাগম ঘটে- এমন স্থানে ঘুরেফিরে পর্যটক সংগ্রহ করে ও প্রলোভন দেখিয়ে হোটেল-গেস্টহাউসে নিয়ে কমিশন হাতিয়ে নেয়।

দালাল চক্রের মূল হোতা হিসেবে জাফর আলম (৩৮) নামের একজনের নাম বলেছে পুলিশ। জাফরের বাড়ি রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল এলাকায়। সাত বছর ধরে তিনি শহরে শতাধিক তরুণ-যুবক নিয়ে গড়ে তুলেছেন দালাল চক্র। শুক্রবারের অভিযানে জাফর আলমকে আটক করে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, যাত্রী হিসেবে পর্যটকদের টমটমে তুলে মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে কৌশলে মালামাল ছিনতাই ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে অহরহ। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে কিছু টমটমচালকের আগে থেকে যোগাযোগ থাকে।

পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, পর্যটকের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ অটোরিকশা ও টমটমচালকদের ডেটাবেইজ তৈরি করছে। এটি তৈরি হলে সৈকত ও মেরিনড্রাইভ এলাকায় চলাচলকারী টমটম ও অটোরিকশায় ট্যুরিস্ট পুলিশের মুঠোফোন নম্বরযুক্ত স্টিকার লাগানো হবে।

এএ