চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে ফের চলবে ইউএস বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৮-০৭ ২০:৩২:২৬


অবশেষে চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু করছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত এই ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে। বর্তমানে এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ভারতীয় বেসরকারি বিমান সংস্থা ‌‌‌`স্পাইসজেট’। বিকল্প না থাকায় বিমান সংস্থাটি একচেটিয়া ব্যবসা করে আসছিল।

ইচ্ছামতো ভাড়াও আদায় করছিল। এখন ‘ইউএস বাংলা’ আসায় ‘স্পাইসজেট এর দাপট কমার পাশাপাশি ভাড়াও কমবে। সঙ্গে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসেন খান বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রাম-কলকাতা সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি আমাদের জানিয়েছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস। এর ফলে যাত্রীদের বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, পাশাপাশি বিমান সংস্থার মধ্যে সেবা দেওয়ার প্রতিযোগিতা বাড়বে যা ইতিবাচক।

তিনি আরো বলেন, আমরা ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষকে বলেছি চট্টগ্রাম-ব্যাংকক রুটে সরাসরি সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে। চট্টগ্রাম থেকে প্রচুর যাত্রী আছে ব্যাংকক রুটে। বিমান সংস্থাটি উড়োজাহাজ আসা সাপেক্ষে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। বিমান সংস্থাটি ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা-ব্যাংকক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।

ইউএস বাংলা এখনো আনুষ্ঠানিক ভাড়া ঘোষণা করেনি কিন্তু ট্রাভেল এজেন্সিতে পাঠানো আজ রোববার ভাড়া দেখানো হচ্ছে। ম্যানহাটান ট্রাভেল এজেন্সি’র মালিক স্বাধীন সবুজ বলেন, সিস্টেমে ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম-কলকাতা-চট্টগ্রাম ভাড়া দেওয়া আছে ১৬ হাজার ৫৩৬ টাকা। ফলে স্পাইসজেটের চেয়ে এই ভাড়া সাড়ে ৩ হাজার টাকা কম। ইউএস বাংলার সময়সূচি স্পাইসজেটের চেয়ে অনেক ভালো। চট্টগ্রাম থেকে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে যাত্রা শুরু এবং কলকাতা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে কলকাতা স্থানীয় সময় ১২টা ৪০ মিনিটে। আর স্পাইস জেট এখন কলকাতা থেকে রওনা দিচ্ছে সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে। আর চট্টগ্রাম থেকে আটটা ৪০ মিনিটে।

জানা গেছে, করোনা মহামারি শুরুর আগে চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করত রিজেন্ট এয়ার, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস, বাংলাদেশ বিমান। করোনা শুরুর পর বাংলাদেশ-ভারত ‘এয়ার বাবল’ চুক্তির আওতায় কেবল স্পাইসজেট ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায়। এরপর থেকে বিমান সংস্থাটি একচেটিয়া ব্যবসা শুরু করে, বিকল্প না থাকায় যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েন। এয়ার বাবল চুক্তি উঠে গিয়ে এখন দু দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। ঢাকা থেকে ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ-ভারত দু দেশের অন্তত ৫টি সংস্থা বিমান চলাচল শুরু করলে চট্টগ্রাম রহস্যজনক কারণে উপেক্ষিত ছিল। ফলে ইচ্ছমতো ভাড়া আদায় করছিল ‌‌’স্পাইসজেট’।

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ট্রিপোভিতে আগামী ১৪ আগস্টের চট্টগ্রাম-কলকাতা-চট্টগ্রাম স্পাইসজেটের বিমান ভাড়া প্রায় ২০ হাজার টাকা। অথচ একইদিন স্পাইসজেটের ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা বিমান ভাড়া প্রায় ১৫ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা ফ্লাই টাইম ৪০ মিনিট হওয়ার পরও ভাড়া ৫ হাজার টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে চট্টগ্রামের যাত্রীদের। আর ঢাকা থেকে কলকাতা ইউএস বাংলা বিমানে সরাসরি গেলে একই দিন ভাড়া পড়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টাকা। আর দেশিয় বিমান সংস্থায় ঢাকা থেকে কলকাতা গেলে ১০ কেজি বাড়তি লাগেজ সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু বাজেট এয়ারলাইনস হওয়ায় স্পাইসজেটে লাগেজ থাকে মাত্র ২০ কেজি। এর বেশি ওজনের লাগেজের জন্য ভাড়া গুনতে হয়।

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ট্রিপোভির প্রধান নির্বাহী সাফওয়াত সোলায়মান বলেন, এটা যাত্রীদের জন্য অবশ্যই সুসংবাদ একটি দেশি বিমান সংস্থা এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এতে করে যাত্রীরা কম ভাড়ায় ভ্রমণের সুযাগের পাবেন। এই রুটে সবচেয়ে বেশি যাত্রী চিকিৎসার জন্য ভারত যান। সেই যাত্রীদের একটি হুইল চেয়ার দিতে আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দেশীয় বিমান সংস্থা হওয়ায় সেই রোগিরা বেশি সার্ভিস পাবেন। প্রতিযোগিতার কারণে অবশ্যই এখনকার চেয়ে বেশি সুফল পাবেন যাত্রীরা।

এএ