যেসব শর্তে বাংলাদেশকে ঋণ দিবে আইএমএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৮-০৮ ১১:১৮:৫৮


দেশে চলমান অর্থনৈতুক সংকটে বাজেট সহায়তা বাবদ প্রত্যাশিত ঋণ পেতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর দেওয়া শর্ত পরিপালনে বাংলাদেশের তেমন সমস্যা হবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, শর্তগুলো পুরনো। এগুলো বাস্তবায়নে আগে থেকেই সরকার আন্তরিক। তবে এর পাশাপাশি সরকারকে রিজার্ভ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ বিষয়ে সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফ-এর ঋণ পেতে বাংলাদেশকে শর্ত হিসেবে অর্থনীতিতে কিছু সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— রাজস্ব খাতে অটোমেশন চালু, আর্থিক খাতে ঋণ ও আমানতের সুদের হারের ওপর আরোপিত ক্যাপ তুলে নেওয়া, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ে একটি ফর্মুলায় এনে তা ঘোষণা করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে বাজেট থেকে আলাদা করা এবং কৃষিতে ভর্তুকির পরিমাণ কমানো।

তবে এসব শর্ত ও সংস্কার সরকার নিজে থেকেই করছে বলে দাতা সংস্থা নতুন করে আর সমস্যায় ফেলবে না বলেও জানায় সূত্র।

২০২২ সালে করোনার দাপট কমে এলেও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে বিশ্ব অর্থনীতি। যার প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতেও। এতে ডলার সংকটের পাশাপাশি বাড়ে আমদানি ব্যয়। কমতে থাকে রিজার্ভ। গত ২০ জুলাই যা ৩৯ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জুলাইতে বাড়লেও তার আগের কয়েক মাস প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমেছে। সব মিলিয়ে লেনদেনের ভারসাম্যে নেতিবাচক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা, রিজার্ভের মজুত চাঙ্গা করা এবং বাজেট ঘাটতি মেটাতে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ গ্রহণে সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের আর্থিক পরিবেশ কিছুটা সংকটে বলে এটা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। এতে কোনও জটিলতাও দেখছেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে সামাল দিতে দেশের লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বাজেট সহায়তার জন্য সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীরও সহায়তা চাইছে। করোনা শুরুর সময় সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল।

এবার আইএমএফ-এর কাছে ৪৫০ কোটি ডলার, বিশ্বব্যাংকের কাছে ৭৫ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা ও জলবায়ু তহবিল থেকে ২৫ কোটি ডলার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) কাছে ৭৫ কোটি ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ১০০ কোটি ডলার, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছে ৪০ কোটি ডলার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে থেকে ৯ দশমিক ৯ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এনজে