জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গুম-বিচারবর্হিভূত হত্যার স্বাধীন তদন্ত চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৮-১৮ ২০:২৫:১২


জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নেই বাংলাদেশে সংঘটিত গুম-বিচারবর্হিভূত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি। শুক্রবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের গতকালের বক্তব্য সমর্থন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জনের বেশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী বা বিভিন্ন সিভিল সোসাইটির মানুষ, শ্রমিক নেতাকে গুম করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এগুলোর কোনো সদুত্তর আমরা পাইনি, গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা পায়নি। একটা মানুষকে রাষ্ট্র গুম করে রাখবে। মানে কিছু জানবে না, তার সব অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করা হবে, তার পরিবারকে মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে, এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।’

‘জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার অত্যন্ত সঙ্গতভাবে বলেছেন যে এগুলোর সুষ্ঠু স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে এবং সেই সঙ্গে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, তাদের বিচার হতে হবে। তিনি র‌্যাবের নামও উচ্চারণ করেছেন যে, র‌্যাবের মাধ্যমে এগুলো হয়েছে বলে তাদের ইনভেস্টিগেশনে এসেছে,’ বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা বলেছি যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন ইনভেস্টিগেশন চাই। ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে সেগুলো উদঘাটন করতে চাই এবং যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, যেসব সংস্থা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমরা জানিয়েছি।’

‘গুম নিয়ে বিএনপির অভিযোগ বেশিরভাগই রাজনৈতিক’ ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা তো এ কথা বলবেনই। তারা তো স্বীকার করবেন না। তবে গতকাল উনার (ওবায়দুল কাদের) বক্তব্য যেটা দেখলাম উনি বলেছেন, জাতিসংঘের কোনো ক্ষমতা নেই এসব গুম-অপহরণের বিষয়গুলো বিচার করবার।’

‘তাহলে স্বীকার করছেন যে এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। আপনারা তো নিশ্চয়ই পুলিশ অফিসারদের বক্তব্যগুলো শুনেছেন। এর আগে তারা বলেছেন যে অনেকে হারিয়ে যায়, অনেকে পারিবারিক কারণে লুকিয়ে থাকে। কিন্তু এগুলো প্রমাণিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে নেত্র নিউজের যে প্রতিবেদন বেরিয়েছে সেখানে আরও প্রমাণিত হয়েছে যে রাষ্ট্র এর সঙ্গে জড়িত, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই গুম-নির্যাতনের সঙ্গে জড়ানো হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে আমাদের এতদিনের দাবি আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা যেটা এতদিন বলে আসছি যে, এখানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এনফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স এবং এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং চলছে। উনার (জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার) বিবৃতিতে আছে শর্টটার্ম ও লংটার্ম ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স হয়েছে।’

‘উনি পরিষ্কার করে বলেছেন যে আমাদের কর্মীরা মানে জাতিসংঘের কর্মীদের ফাইন্ডিংসগুলো হচ্ছে এভাবে গুম হয়ে গেছে, এভাবে ডিসঅ্যাপিয়ার হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘বিবৃতিতে প্রমাণিত হয়েছে যে এসব তারা আমলে নিয়েছে কি না। এমনকি তারা এটাও বলেছে যে এসব ঘটনা ইনভেস্টিগেশন করার জন্য নতুন একটি টিম আসবে। তারা আশা করেন যে সরকার তাদের অনুমতি দেবে। আপনারা জানেন, এর আগে কয়েকবার হিউম্যান রাইটস কমিশন আসতে চেয়েছিল। সরকার তাদের বাধা দিয়েছে, আসতে দেয়নি। এবার তাদের আসতে দিয়েছে।’

৪ দিনের সফর শেষে ঢাকা ত্যাগের আগে গতকাল বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ তদন্তে সরকারকে একটি স্বাধীন ও বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনা গঠনের আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এই সংস্থা যেন গঠন করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় প্রস্তুত আছে বলেও জানান ব্যাচেলেট।

এএ