১ লাখ নিয়ে ৩ লাখ দিয়েও কমে না সুদের ঋণ, যুবকের আত্মহত্যা
জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২২-০৮-১৯ ২০:৪৮:০৯
বছর তিনেক আগে ব্যবসা করার জন্য এক সুদ কারবারির কাছ থেকে এক লাখ টাকা এনেছিলেন ফয়সল আহমদ সৌরভ (২৫)। এই সময়ে সুদ হিসেবে তিন লাখ সুদ কারবারিকে দিয়েছিলেন। কিন্তু আরও টাকা চাওয়ায় মানসিক চাপে ওই ব্যক্তি ফেসবুকে সুইসাইড নোট পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা বালিজুরী ইউনিয়নের পাতারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) রাতে গ্রামের একটি বটগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়।
ফয়সল আহমদের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা বালিজুরী ইউনিয়নের পাতারি গ্রামে। তাঁর স্ত্রী ও চার মাস বয়সী এক মেয়ে আছে।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে। অভিযুক্ত সুদখোরদের বিচারের দাবি জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
আত্মহত্যার আগে সৌরভ তার ফেসবুকে লেখেন, ‘আমি গলায় দড়ি দিলাম তুই রফিকের লাগি। তুই আমারে কাবু করিয়া লাশ বানাইলি। তুই ভালো থাক বেইমান। সফিকের কাছ থৈকে এক লক্ষ টাকা আনছিলাম সুদে। তিন লক্ষ টাকা সুদ দিয়াও সাড়ে তিন লক্ষ টাকা এখনও পায়। এই রফিক আর সফিকের লাগি আমি আত্মহত্যা করলাম। ভালো থাক আমার পরিবার। মা, ফাইজা আমায় ক্ষমা করো। মা বাবা, ভাই বোন তোমরা ক্ষমা করিও। বউ তোমাকে কিছু বলার নাই। ইতি এক কাপুরুষ!!!’
পরে এলাকাবাসী তার এমন স্ট্যাটাস খোঁজাখুঁজির পর গাছের সাথে সৌরভের ঝুলন্ত দেহ দেখে পুলিশে খবর দেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনরা জানান, স্থানীয় সুদখোর রফিক আর সফিকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা এনেছিলেন সৌরভ। এই টাকার বিপরীতে তিন লাখ টাকা সুদ দেওয়ার পরও আরো সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন ওই দুই সুদখোর। এতে আর্থিকভাবে দেউলিয়া ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সৌরভ। তাদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে তদন্ত পূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো জানান, লাশ ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এম জি






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













