স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে পেট্রোবাংলার বিশেষ পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২২-০৮-২৪ ০৯:১৮:১৮
ইউরোপে চলমান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অস্থিরতায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও দেশের ভেতরে নিজস্ব গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির ফলে উদ্ভূত সংকটের পটভূমিতে দেশীয় খনিজসম্পদ অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে সরকার। সংকট কাটাতে স্থলভাগে গ্যাসের খোঁজ ও উত্তোলনে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি ২০২৫ সালের মধ্যে ৪৬টি কূপ খননের মাধ্যমে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ৬২ কোটি ঘনফুট বাড়াতে চায়। এর মধ্যে ১৭টি অনুসন্ধান, ১২টি উন্নয়ন এবং ১৭টি ওয়ার্কওভার (সংস্কার) কূপ খনন করা হবে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও শক্তিশালী খনন যন্ত্রসহ (রিগ) আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি থাকলে অনুসন্ধান সক্ষমতা আরও বাড়ত বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বলেন, বিভিন্ন সময়ের জরিপের তথ্যই বলে দিচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গ্যাসপ্রবণ এলাকা। দেশে তিনটি কূপ খুঁড়লেই একটিতে গ্যাস মেলে। যেখানে বিশ্বের অন্য অঞ্চলে এই হার ৫:১। তার পরও দেশে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম চলেনি। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের চেয়ে বাংলাদেশ আকারে ১৪ গুণ বড়। ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার ত্রিপুরায় এ পর্যন্ত ১৭০টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। আর বাংলাদেশে গত ১১২ বছরে মাত্র ৯৬টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর ৫২ বছরে খনন করা হয়েছে ৪১টি। তিনি বলেন, সুরমা বেসিনের বৃহত্তর সিলেট, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী অঞ্চলেই মূলত গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। সে তুলনায় বেঙ্গল বেসিনে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান তেমন হয়নি। বদরূল ইমাম এই বেসিনের বরিশাল, ফরিদপুর, ভোলাসহ আশপাশের দ্বীপাঞ্চল, মেঘনা নদীবক্ষ প্রভৃতি এলাকাকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করেন। এই বেসিনে গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, খুব কম সময়ে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এতে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলী বলেন, দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন এবং ওয়ার্কওভারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বছর অনুসারে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ অনুসারে সারাবছর কাজ হবে।
বর্তমানে দেশে ২১টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে দিনে ২৩২ কোটি ঘনফুট গ্যাস মিলছে। দেশীয় তিনটি কোম্পানির ১৭ ক্ষেত্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৮৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বিদেশি দুই কোম্পানি শেভরন ও তাল্লোর মালিকানাধীন চার ক্ষেত্র থেকে মিলছে ১৪৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এর বাইরে আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৫৮ কোটি ঘনফুট।
জানা গেছে, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আবার সক্রিয় হয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। এ বছরের মধ্যে বাপেক্সের গ্যাসক্ষেত্রে পাঁচটি আর সিলেট গ্যাসফিল্ডস কোম্পানির (এসজিএফএল) ফিল্ডে একটি কূপ খনন করা হবে। এতে বছর শেষে দিনে ছয় কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়তে পারে। আগামী বছর বাপেক্সের ৫টি, এসজিএফএলের ৬টি এবং বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডস কোম্পানির (বিজিএফসিএল) ৪টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ১৫ কূপে দৈনিক ২১.৭ কোটি ঘনফুট উৎপাদন বাড়ার আশা করছে পেট্রোবাংলা। ২০২৪ সালে বাপেক্স ৬, বিজিএফসিএল ৪ এবং এসজিএফএল ৪ কূপ খনন করতে পারে। এতে সেই বছর দিনে ১৭.৬ কোটি ঘনফুট উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫ সালে বাপেক্স ৪, বিজিএফসিএল ৪ এবং সিলেট গ্যাস ৩টি কূপ খনন করবে। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১৬.৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে।
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














