অপেক্ষা শুধু মুত্যুপরোয়ানার
আপডেট: ২০১৬-০৩-১৫ ২০:৪৫:২০
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় পৌছে গেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। আইন অনুসারে বিচারিক আদালতই (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) মৃত্যুপরোয়ানা জারি করবে এবং তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠাবেন।
এ পরোয়ানার ভিত্তিতে দেশের শীর্ষ এই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করবে কারা অধিদপ্তর। মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ মৃত্যুপরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়নি।
জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয় পূর্ণাঙ্গ রায়টি। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রায়ের অনুলিপিসহ অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল অরুনাভ চক্রবর্তীকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুক তা গ্রহণ করেছে। ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি মৃত্যুপরোয়ানা জারি করবেন বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার।
জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. নেসার আলম মুকুল বলেন, আমরা এখনো মৃত্যুপরোয়ানা পাইনি। আমরা মৃত্যুপরোয়ানা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত।
এর আগে বিকেলে ১৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ আপিলে রায় প্রদানকারী চার বিচারপতির স্বাক্ষরের পর তা প্রকাশিত হয় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে। অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করতে ১৫ দিনের সময় পাবেন আসামিপক্ষ। বুধবার থেকে এ ১৫ দিনের ক্ষণগণনা শুরু হবে। এ সময়ের মধ্যে কেউ রিভিউ আবেদন না করলে আইন অনুসারে দন্ড কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃতুদন্ডাদেশ দেন নিজামীকে।
এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৩ নভেম্বর আপিল করেন নিজামী। ছয় হাজার ২শ’ ৫২ পৃষ্ঠার আপিলে মোট ১শ’ ৬৮টি কারণ দেখিয়ে ফাঁসির আদেশ বাতিল করে খালাস চেয়েছিলেন তিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ।
সানবিডি/ঢাকা/আহো






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














