প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বসন্ত উৎসব উদযাপিত
প্রকাশ: ২০১৬-০৩-১৫ ২১:৫৪:৫৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটির আয়োজনে প্রথমবারের মত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বসন্ত উৎসব-১৪২২”। নিবেদনে ছিল ‘মোনালিসা ওমেন্স ক্লাব’। গতকাল বসন্ত উৎসব সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। মূলমঞ্চে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মঞ্চে ছিল ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, গম্ভীরা, গীতিনাট্য, নকশী কাঁথার মাঠের মঞ্চায়ন, মঞ্চ নাটক, পুঁথি পাঠ, জারী গান ও আবৃত্তিসহ লোকজ সংস্কৃতির বেশকিছু পরিবেশনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হয় আগত দর্শকরা। মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছিলো গ্রামীণ মেলার বিভিন্ন পরিবেশনা দিয়ে। ছিলো ফুড কর্ণার, চটপটি, ফুসকা, হাওয়াই মিঠাই, নানা ধরনের পিঠা, নাগরদোলা, বায়োস্কোপ, বানর খেলা, ফরচুন টেলার, ক্যারিকেচার ড্রয়িং, সাপের খেলা, মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র, মেয়েদের জন্য চুড়ি এবং মেহেদি কর্ণার।
উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জাঁকজমকপূর্ণ গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা ধরনের পরিবেশনার পাশাপাশি ছিলো কিরণ চন্দ্র রায়, বাপ্পা মজুমদার এবং জলের গানের পরিবেশনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল জায়গা ছিল এদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। আমি স্মরণ করছি সেইসব শহীদদের যারা আমাদের ভাষার জন্য, সংস্কৃতির জন্য জীবন দিয়েছেন। বাঙালির সংস্কৃতিই হচ্ছে বাঙালির শক্তি। এ শক্তিই আমাদের ১৯৫২-তে প্রেরণা যুগিয়েছিল ভাষার জন্য জীবন দিতে। যা পৃথিবীর কাছে আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের এ সংস্কৃতিকে প্রকাশ করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম যে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে যুক্ত তা প্রকাশ করার জন্য এ ধরনের উৎসবের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল সোসাইটি আরো ভাল ভাল আয়োজন করবে, এই শুভকামান রইলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য নাট্য ব্যক্তিত্ব আলী যাকের। তিনি তার বক্তব্যে এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেন, ঋতুভিত্তিক উৎসবগুলো উদযাপন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই উৎসবগুলোই সব ধর্মের মানুষের মেলবন্ধন ঘটিয়ে সাম্প্রদায়িকতা থেকে আমাদের দূরে রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। তিনি বলেন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল সোসাইটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে একটি নতুন এবং অসাধারণ প্লাটফর্ম। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আছে এবং ভবিষ্যতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মডারেটর সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী, বসুন্ধরা গ্রুপের বসুন্ধরা পেপার মিলসের ব্র্যান্ড হেড সলিম উল্লাহ সেলিম, সংগঠনের সভাপতি ওয়াসেক সাজ্জাদ ও সাধারণ সম্পাদক আহসান রনি। অনুষ্ঠান উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে রচিত জারিগান পরিবেশন করেন জেবলিন ও তার দল। এছাড়া ছিল বসন্ত উৎসবের থিম সংয়ের সাথে নৃত্য। উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য বাসন্তী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলের সাংস্কৃতিক পর্ব উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। রাতে ফানুস উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। বসন্ত উৎসবের আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটি থেকে জানানো হয়, এই উৎসব প্রতি বছর আয়োজন করতে চায় এই ছাত্র সংগঠনটি।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












