নওগাঁয় মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে জনবল সংকট
আপডেট: ২০১৬-০৩-১৭ ১৮:৩৭:৫৫
দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের কাজের পরিধি। কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি জনবল। আগের তুলনায় মহিলা বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের কাজের পরিধিও বেড়েছে অনেকগুণ। কিন্তু মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে জনবল সংকটের কারণে কোন কাজই সঠিক সময়ে হচ্ছেনা। ফলে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি বৃন্দরা লোকবল বাড়ানো দাবী জানিয়েছেন।
জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা অফিসসহ অনুমোদিত পদসংখ্যা রয়েছে ৪৫ জন। আর কর্মরত আছেন ৩১ জন। নওগাঁয় ১১টি উপজেলা হলেও সদরে মহিলা বিষয়ক কোন কার্যালয় নাই। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় প্রয়োজনের তুলনায় জনবল সংকট।
জেলার আত্রাইতে অফিস সহায়ক, সাপাহারে প্রশিক্ষক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক, পত্নীতলায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পোরশায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, মহাদেবপুরে অফিস সহায়ক, রাণীনগরে প্রশিক্ষক ও অফিস সহায়ক, নিয়ামতপুরে প্রশিক্ষক ও অফিস সহায়ক, বদলগাছীতে প্রশিক্ষক ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং ধামইরহাটে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে লোকবলের অভাবে কর্যাক্রম ব্যহৃত হচ্ছে। জেলা অফিসে অনুমোদিত পদ ৬ জন থাকলেও এর বিপরীতে আছে ৩ জন। অফিস সহকারী একজন দেড় বছর থেকে, প্রোগাম অফিসার একজন হলেও আদও ছিলনা ও অফিস সহায়ক একজনের পদ শূন্য আছে।
এছাড়া নওগাঁ সদরে উপজেলা পর্যায়ে অফিসের জন্য ৪জন কর্মকর্তার প্রয়োজন থাকলেও সেখানে কোন অফিস নাই। উপজেলা অফিসার, প্রোগাম অফিসার, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কের পদ ফাঁকা আছে। অফিস না থাকায় সম্পূর্ন কাজ করতে হয় জেলা অফিসে এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকেই সামাল দিতে হয়। এ বিষয়ে বারংবার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
উল্লেখিত পদে জনবল সংকট থাকার কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সকলেই অবগত আছেন। জনবল সংকটের কারণে এই কার্যালয় থেকে জনগনের সেবা সঠিক সময়ে পেতে অসুবিধা হচ্ছে। “পল্লী বধু” বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী শবনম মোস্তারি কলি জানান, সদরে কোন অফিস না থাকায় জেলা কার্যালয় থেকে কোন কাজ করতে গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়। যারা উপজেলা থেকে কোন সংস্থার নামে রেজিষ্ট্রেশন করেন তাদের সুবিধা ও ঝামেলা কম। আর আমাদের জেলা পর্যায়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়।
তিনি সদর উপজেলায় মহিলা বিষয়ক কার্যালয় স্থাপন ও জনবল বাড়ানো দাবী জানান। অফিসের হিসাব রক্ষক কাম ক্রেডিট সুপাঃ আজিজুল হক জানান, প্রয়োজনের তুলনায় অফিসে জনবল সংকট থাকায় কাজের চাপ বেড়ে গেছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসের সময় হলেও কাজের চাপ থাকায় রাত প্রায় ৯/১০ টা পর্যন্ত করতে হয়। অফিস সহায়ক না থাকায় কাজের চাপ বেড়েই চলেছে। চাপ বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে অনেকের কাজ দেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি অফিসে পর্যাপ্ত জনবল দেওয়া জন্য উপর মহলের দৃষ্টি আর্কষন করেন।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, জনবল সংকট থাকায় প্রতিনিয়ত মানুষিক ভাবে নির্যাতিন হচ্ছি। প্রধান কার্যালয় থেকে কোন চিঠি এলে এবং তার উত্তরের জন্য একটু দেরী হলে জবাবদিহীতা করতে হয় এবং শোকজ খেতে হয়। কেন দেরী হলো এটা তারা দেখেন না। জনবল স্বল্পতার দরুণ এই কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত কাজ সঠিক সময়ে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। দ্রুত সময়ে সেবা প্রত্যাশি জনগণ সঠিক সময়ে সঠিক সেবা পেতে অসুবিধা হচ্ছে। এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়।
তিনি আরো জানান, জেলার সবকার্যক্রম মনিটরিং, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে যোগদান, দিবস পালন, দাপ্তরিক কার্যক্রমের সমন্বয় সাধনা করা একার পক্ষে দুঃসার্ধ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সদরে কোন অফিস না থাকায় নিজেকেই দেখতে হয়।
জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, লোকবলের অভাবে কার্যক্রম কিছুটা ব্যহৃত হচ্ছে। তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
সানবিডি/ঢাকা/আরমান/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













