রাস্তার বেহাল দশা, মৃত্যু ফাঁদ হচ্ছে ভাঙা কালভার্ট

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২২-০৯-১৪ ১৪:৩৮:৪৭


দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ১নং শিবারমপুর ইউনিয়নের মুরারীপুর থেকে রথবাজার চৌরাস্তাগামী রাস্তায় মাসের পর মাস থেকে কালভার্ট-টি ভেঙ্গে দিন-দিন মৃত্যুর ফাঁদ হচ্ছে, দেখার যেন কেউ নেই ভোগান্তি শত-শত শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, সর্বত্র লাগছে উন্নয়নের ছোয়া। কিন্তু দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ১নং শিবরামপুর ইউনিয়নের মাত্র কয়েকটি রাস্তা বাদে বাকী সবগুলো রাস্তাই কাঁচা। যা বর্ষার দিনে চলাচল একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ে । রাস্তাগুলো পাকা করার দাবিতে এলাকা বাসির ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

উপজেলার ১নং শিবরামপুরের মুরারীপুর, শাহাডুবী, দেউলী, আ.মিলনপুর, আ.লস্করা, ধনগাঁও গ্রাম এর রাস্তাগুলোর অবস্থার বেহাল দশা। রথবাজার হতে শেখবাজার, খোচাবাড়ী হাট হতে  রথবাজার হতে হাড়িপুকুর/বাগেরহাট, কবিরাজ হতে গড়েয়াহাট ও মুরারীপুর হতে রথবাজারগামী রাস্তার ব‍েহাল দশা। অত্র রাস্তাগুলো থানা ও জেলা সদর  যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। বর্ষার  বৃষ্টিতে অত্র এলাকার রাস্তাগুলো যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে এমনকি পায়ে হেটেও যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতলে নিতে  অনেক বিপাকে পড়তে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে এ এলাকার লোকজন। যার ফলে অত্র এলাকার মানুষ বর্ষাকালে খুবই মানবেতর জীবন-যাপন করতে হয়। অত্র এলাকার অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ বারবার অনেক নেতাকর্মী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও সান্তনার বাণীতেই শান্ত থাকতে হয়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী। স্বাধীনতারার ৪৮ বছর অতিক্রম করলেও, অতিক্রম হয়নি এলাকাবাসীর দূর্ভোগ। গ্রামকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়,  আটষট্রি হাজার গ্রাম বাঁচলে, বাঁচবে দেশ । অত্র গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই কৃষক, কৃষিই হচ্ছে যাদের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু এলাকার কৃষকেরা পর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যাবস্থার কারনে তাদের কৃষি পণ্য পাশের দুই বড় হাট গড়েয়া হাট ও খোঁচাবাড়ী হাটে কেনা-বেঁচা করতে পারছেনা। যার কারনে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা কৃষক, হতে হচ্ছে ক্ষতির সম্মুখিন।

তাছাড়া অত্রএলাকায় রয়েছে সরকারী বেসরকারী অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীরা মেধাবিকাশে পিছিয়ে পড়ছে। এছাড়াও অত্রএলাকার রয়েছে ব্যাংক ও অন্যান্ন উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যাবস্থার অবনতির কারনে  ব্যাহত হচ্ছে এসব এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম।

এ বিষয়ে মুরারীপুরের আলমগীর নামে এক ব্যক্তি বলেন, রাস্তার এমন অবস্থার কারনে, আমরা শহর মুখী তো অসম্ভব, হাট-বাজারও করতে পারিনা। ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল কলেজে যেতে ও পারে না এই বর্ষার দিনে বেহাল অবস্থার সম্মুখীন গ্রামবাসী।

১নং শিবরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সত্যজীৎ রায় কার্তিক বলেন, রাস্তাটিতে একটু বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়, এবং কালভার্ট বিষয়ে ইতিমধ্যেই আবেদন করেছি, বর্ষা পেরিয়ে পানি শূন্যে হলেই কাজ শুরু হবে।

দেশের উন্নয়নকে অর্থবহ ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে অত্রএলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন ও রাস্তাপাঁকা করার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিদানের জন্য  অনুরোধ করেছে এলাকাবাসী।

এনজে