নীলফামারীতে
১০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো
জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২২-০৯-১৮ ১৬:২৫:৫১
নীলফামারী সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের কোরানী পাড়া ঘাটে যমুনেশ্বরী নদীর ওপড় তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ— এই নদীর ওপরে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না।
স্থানীয়রা বলেন, কত লোক আইসে লেখে আর মাপি যায় হামার কপালোত আর ব্রীজ হয়না।ব্রীজ না হওয়ায় প্রতিনিয়ত পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।ওই ঘাটের উপড় একটি ব্রীজ হলে যাতায়াত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহ পাল্টে যাবে মানুষের জীবন মান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক যাতায়াত করেন। এলাকাবাসির যৌথ উদ্যোগে মানুষের কাছ থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে বাঁশের সাঁকো তৈরী করে যাতায়াত করেন পথচারীরা। এই সাঁকোটি হলো নীলফামারী জেলা শহড়ে যাওয়ার একমাএ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। সাঁকোর পূর্ব দিকে রয়েছে উত্তরা শশী প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রশ্চিমে রয়েছে উত্তর কানিয়াল খাতা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কানিয়াল খাতা মাদ্রাসা, কানিয়াল খাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিনোদন কেন্দ্র ওসমানিয়া উদ্যোন।
প্রতিদিন শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন পেশার লোকজন দুর্ভোগে চলাফেরা করছেন। বেশী সমস্যায় রয়েছেন কৃষক, তারা কৃষি পণ্যে বাজারে নিতে না পারায় সঠিক দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্ষার সময় নদীর পানির স্রোতে বাঁশের সাঁকো ভেঙে ভেসে যায়, তখন কলা গাছের ভেলা বানিয়ে পার হতে হয়। এই দুর্ভোগ থেকে পরিএাণ চাচ্ছেন স্থানীয় সহ পথচারীরা। তাদের দাবি একটি ব্রীজ হলে পাল্টে যাবে এই এলাকার দৃশ্যপট।
উত্তর কানিয়াল খাতা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন, ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাশেদ মিয়া বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকি। বর্ষার সময় কলার ভেলায় পার হতে হয়। অনেক সময় বই খাতা নদীতে পরে ভেসে যায়,আমাদেরও দুর্ঘটনায় পরতে হয়। সাঁকোর উপড় ব্রীজটির জরুরী প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা লাল বাবু,কৃপা রায়,আব্দুল ওহাব,মিজানুর রহমান বলেন, কত লোক আইসে লেখে আর মাপি যায় হামার কপালোত আর ব্রীজ হয়না। হামার জন্ম থেকে দেখি আসি মাপামাপি অনেক অফিসার করেন কিন্তু আইজ পর্যন্ত ব্রীজের মুখ হামরা দেখিবার পাইনো না। হামরা অনেক কষ্ট করিয়া হাট, বাজার, স্কুল কলেজ ও নীলফামারী শহরোত যাই। হামার কষ্ট দেখিবার কোন মানষি নাই, ভোট আসিলে সগাই ব্রীজ দিবার চায়।ভোটোত জিতিলে হামার আর ব্রীজের খবর নাই।
জানতে চাইলে জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী সুজন কুমার কর বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
সানবিডি/এমআর






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













