‘নাতি-পুতিরা কোটায় চাকরি পাবে এ আশায় যুদ্ধ করেননি মুক্তিযোদ্ধারা’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৯-১৮ ২০:১০:৩৭

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা তাদের নাতি-পুতিরা কোটায় চাকরি পাবে এই আশায় মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে আত্মত্যাগ করেছিলেন।’

রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ’ শীর্ষক গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তারা কিন্তু কোটায় একটা চাকরি পাবে তার নাতি-পুতি এই জন্য করেন নাই। তারা এই দেশটাকে ভালোবেসে করেছেন। তারা শোষণ এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে আত্মত্যাগ করেছেন, বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। তারা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘গত শতকে দুটি ঘটনা ঘটে গেছে। যা চার হাজার বছরের গতিপথ পাল্টে দেয়। একটি হলো বঙ্গবন্ধুর আবির্ভাব, আরেকটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে পুলিশের যে বীরত্ব ছিল, এই গ্রন্থ তার নমুনামাত্র।’

আইজিপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ৩০ বছর গণতন্ত্রের দেখা মেলেনি। এই সময় স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে স্বাধীন দেশের পতাকা দেখেছি। তবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কারণে খুব সহজেই আমরা এখন তুলনা করতে পারি। তাছাড়া আমাদের একটা প্রমিজিং জেনারেশন রয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পুলিশের ছায়ার মতো সংযোগ ছিল দাবি করে পুলিশপ্রধান বলেন, ‘এখন অনেক সত্য ইতিহাস বেরিয়ে আসছে, সিক্রেট ডকুমেন্টস সূত্রে জানতে পারি। বাঙালি পুলিশ শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিল। সভা-সমিতি করার ব্যবস্থা করেছে বাঙালি পুলিশ। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে তা উঠে এসেছে।’

ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে পুলিশের বীরত্বগাঁথা নিয়ে অনেক আগেই কাজ শুরু হয়েছে। ডকুমেন্টারি হয়েছে, বই লেখা হয়েছে। আমরা উদ্যোগ নেবো। প্রয়োজনে ৬৪ জেলায় মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলাদা প্রকল্প নেবো। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা আলাদা করে প্রকাশ করবো। এখন অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা পুলিশের গর্বের জায়গাগুলো, প্রকৃত ইতিহাস প্রকাশ করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘যতদিন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা হবে, ততদিন পুলিশের বীরত্বগাঁথা উচ্চারিত হবে। কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা ছিল বীরত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আয়োজনে ও পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রকার ও ভাস্কর রেডিও শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার, কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী, এলিট ফোর্স র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল আহসান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ গ্রন্থের সম্পাদক হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

এএ

Print Print