স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যায় নোয়াখালীতে প্রতিবাদ

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২২-০৯-২৪ ১৯:২৯:৫২


নোয়খালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসমিয়া হোসেন অদিতা হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যার প্রধান আসামি আব্দুর রহমান রনির ফাঁসি ও জেলা শহরের কিশোর গ্যাং লিডার এবং সদস্যদের গ্রেপ্তার দাবি করেন।

শনিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নোয়াখালী প্রেসক্লাব, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

হরিনারায়ণ পুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল আলিম বলেন, ‘প্রত্যেকেই যার যার জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখলে দাঁড়াতে হবে এবং সমাধান করতে হবে।’ তিনি কিশোর গ্যাং গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং অদিতা হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে শনিবার বিক্ষোভকারী ছাত্র ছাত্রীরা দুপুর ২টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে এসে জড়ো হয়। সেখানে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে পুনরায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে করে।

এর পর নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রীরা সুধারাম মডেল থানার সামনে সোনাপুর-ঢাকা-চট্রগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। ছাত্রীরা সড়কের ওপর বসে অবস্থান নেয়। এর ফলে ৩০ কি.মি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে য়ায়। খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম এসে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিলে তারা অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়।

উল্লেখ্য, গত বৃহষ্পতিবার কোনো এক সময়েজেলা শহর মাইজদীর লক্ষীনারায়ণপুর মহল্লার নিজ বাড়িতে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) ধর্ষণের পর গলা ও হাতের রগ কেটে হত্যা করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের পরপর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রীর সাবেক গৃহ শিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে (২০), ইসরাফিল (১৪), তার ভাই সাঈদ (২০) ও ইমাম হোসেন (৩৯) গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার রনিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এম জি