দশ পৌরসভায় আজ নির্বাচন, ভোট গ্রহন চলছে
প্রকাশ: ২০১৬-০৩-২০ ১২:০১:০৫
দ্বিতীয় ধাপে ১০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ধাপে রংপুরের হারাগাছ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝালকাঠি, নোয়াখালীর কবিরহাট, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, কক্সবাজারের চকরিয়া ও মহেশখালী, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ ও ফেনীর সোনাগাজীতে ভোট হবে।
ভোটকে কেন্দ্র করে পৌরসভাগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। কয়েকটি পৌরসভায় প্রার্থীরা ভোট কেন্দ্র দখল ও কারচুপির অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে। তারা বলেন, ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছাড়া অন্যদের প্রচারণায় বাধা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে কমিশন ওই এমপিকে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
আমাদের ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি লিয়াকত আলী তালুকদার। এছাড়া দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক (বহিষ্কৃত) বর্তমান মেয়র আফজাল হোসেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে শহর বিএনরি সভাপতি অনাদী দাস নির্বাচন করছেন।
নির্বাচনে পুলিশের ২৫৩ জন সদস্য, আনসারের ২৫২ জন সদস্য, র্যাবের ৪টি মোবাইল টিম ও ১ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। এই ফোর্সের সাথে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।
পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, সরকার দলীয় ক্যাডার ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিতে পারে। তারা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে। গতকাল শনিবার সোনাগাজী উপজেলা বিএনপি শহরের এসএসকে সড়কে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেছে। এতে বক্তব্য রাখেন সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, সাবেক সভাপতি জয়নাল আবদীন বাবলু, সাবেক পৌর বিএনপি সভাপতি আলাউদ্দিন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সন্ত্রাসীরা গত শুক্রবার থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য পৌর এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, চকরিয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ১৮টি কেন্দ্র এবং মহেশখালী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রই কয়েকজন প্রার্থী ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দাবি করলেও প্রশাসন বলছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর থাকবেন।
কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ ও কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় মহেশখালীতে প্রতি ভোট কেন্দ্রে ২২ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং র্যাবের ২টি টহল দল, ১ প্লাটুন বিজিবির সদস্য, ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।
এছাড়া চকরিয়া পৌরসভার প্রতি ভোট কেন্দ্রে ২২ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং র্যাবের ৪টি দল, ১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য, ১ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রের ব্যাপারে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করলেও প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ ও নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নয়। সবকটি কেন্দ্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন কাজ করছে।
মেয়র পদে মহেশখালী পৌরসভায় প্রার্থী রয়েছে ৩ জন। আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া (নৌকা), আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম (নারিকেল গাছ), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (ধানের শীষ)।
মেয়র পদে চকরিয়া পৌরসভায় প্রার্থী রয়েছে ২ জন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ আলমগীর চৌধুরী (নৌকা) ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার (ধানের শীষ)।
সানবিডি/ঢাকা






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














