কম দামের শেয়ার বেশি দামে কিনছে সামিট পাওয়ার
প্রকাশ: ২০১৬-০৩-২১ ১০:৪৯:২৯
সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে নতুন কৌশলে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেড উচ্চ মূল্যে এর উদ্যোক্তাদের পারিবারিক মালিকানার অন্য দুটি কোম্পানির শেয়ার কিনছে।
এদিকে সামিট গ্রুপের চারটি কোম্পানির অ্যামালগেমেশন বা একীভুতকরণের খবরে টানা দর পতন শুরু হয়েছে এই গ্রুপের তালিকাভক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ারে। গত দুই দিনে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ; শেয়ারটির দাম ৪১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩৭ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে এসেছে। অন্য কোম্পানি সামিট পূর্বাঞ্চল কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারের দাম ৫৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে ৪৯ টাকা হয়েছে। দুই দিনের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম কমেছে ১৪ শতাংশের বেশি।
উল্লেখ, গত ১৫ মার্চ সামিট পাওয়ারের সঙ্গে একই গ্রুপের তিনটি কোম্পানি সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, সামিট উত্তরাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এবং সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ার লিমিটেড।
আইপিওতে সামিট উত্তরাঞ্চলের শেয়ারের দাম প্রস্তাব করা হয়েছিল ৪০ টাকা। একীভুতকরণের নামে সামিট পাওয়ার একই শেয়ার কিনছে প্রায় ৬০ টাকা দরে
আলোচিত তিন কোম্পানির মধ্যে সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। বাকী দুই কোম্পানি পুঁজিবাজারের বাইরে। এর মধ্যে সামিট উত্তরাঞ্চলের আইপিওতে আসার কথা ছিল। আইপিওতে ১০ টাকা শেয়ারের বিপরীতে ৩০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৪০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল আইপিও আবেদনে। একীভুতকরণ প্রস্তাবে সামিট উত্তরাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানির একটি শেয়ারের বিপরীতে সামিট পাওয়ারের ১ দশমিক ৬৬৮টি শেয়ার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সামিট পাওয়ারের শেয়ারের দাম ছিল ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা। এই হিসেবে সামিট উত্তরাঞ্চলের শেয়ার বিনিময় করে এর মালিকারা প্রতি শেয়ারে পাবেন ৬২ টাকা ২০ পয়সা, যা আইপিওতে প্রস্তাবিত দামের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
সামিট পাওয়ারের এই একীভুতকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান-উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীরা চরম হতাশ। এদের কেউ কেউ অর্থসূচকের কাছে তাদের হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির পর থেকে নানা কৌশলে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বছরের পর বছর এরা বোনাস দিয়ে কোম্পানির মূলধন বাড়িয়ে গেছে। কোম্পানির পাওয়ার জেনারেশন বেড়েছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যে তেমন ভাল কিছু জুটেনি।
তিনি বলেন, তিন/চার বছর আগে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করে বিপুল টাকা নিয়েছে কোম্পানিটি। প্রেফারেন্স শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের মূলা দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করা হয়।কিন্তু যে মূল্যে এই রূপান্তর হয়েছে, বর্তমানে তার চার ভাগের এক ভাগ দামে বিক্রি হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সামিট পাওয়ারের ডিপুটি কোম্পানি সেক্রেটারি অর্থসূচককে বলেন, এটি (অ্যামালগেমেশন) আমাদের প্রস্তাব মাত্র। এটি কার্যকর করতে হাইকোর্টের সম্মতি, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তাই এতে পরিবর্তনের অনেক সুযোগ আছে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













