৫-১৫ বছরের মধ্যে দেশে বড় দুর্ঘটনা : বারকাত

প্রকাশ: ২০১৬-০৩-২৩ ১৮:০৫:১৮


abulbarkat2222অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত সরকার সমর্থকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশে ৫-১৫ বছরের মধ্যে বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ যদি আপনাদের দলের অসংখ্য নেতাকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, বিশ্ব দর্শন সম্পর্কে বলতে বলি; শিক্ষার্থীরা তো এ প্লাস পায়, আপনারা ৯০ ভাগই ফেল করবেন। তাহলে কী নিয়ে রাজনীতি করেন?

তিনি বলেন, ‘আপনাদের দলের অনেক বড় বড় নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেন না। যদি করতেন তবে ভূমিহীন মানুষের থাকার জায়গা হত, গরীব মানুষের জায়গা দখল হত না।

‘আপনারা অমুক ভাইয়ের স্বাগতম, আরও কি কি স্লোগান দেন? এ সব আজেবাজে কথা। ও সব বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে যান। কারণ আমি যা বলি তা হয়, আগামী ৫-১০ কিংবা ১৫ বছর পর দেশে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটবে। তখন আপনারা সবাই মিলে তা ঠেকাতে পারবেন না।’

এরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক বলেন, ‘পলিটিক্যালি, ফাইন্যান্সিয়ালি, ওরাগানাইজেশনালি রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার যোগ্যতা কার আছে? শুনবেন? জামায়াতে ইসলামীর। উত্তর পছন্দ হয়নি, তাই তো?’

‘মৌলবাদের অর্থনৈতিক বিস্তৃতিকে’ কারণ হিসেবে দেখিয়ে তিনি বলেন, একাত্তরে ৯টি সেক্টর থেকে তারা হরিলুট করেছিল। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে তারা মৌলবাদের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। ব্যাংক-বীমা-হাসপাতাল, এমনকি ৩ চাকার রিকশা থেকে সাগরের শিপ পর্যন্ত তাদের দখলে। তাদের বাৎসরিক আয় প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা,  বাজেটের সমান।’

‘জিয়া হলেন কালপ্রিট। সে দেশকে এদিকে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু কেউ এ কথাটি বলে না’ যোগ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তিনি এ সব কথা বলেন।

এ সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জীবনের ৪০ শতাংশ সময় জেলে কাটিয়েছেন। মুরাদ, তোমার বয়স কত? প্রায় বঙ্গবন্ধুর সমান। জেল খেটেছ? উত্তর না। বিএনপি তো ক্ষমতায় ছিল। সাইদী ক্ষমতায় ছিল, জামায়াত ক্ষমতায় ছিল। জামায়াত তো চিনতে ভুল করে না। জামায়াত চিনতে ভুল করে এ কথা আপনারা বিশ্বাস করলেও আবুল বারকাত বিশ্বাস করে না।’

শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রশ্নকে ‘না বুঝে বিতর্ক তৈরি করা’ মন্তব্য করে বারকাত বলেন, ‘তবে মুক্তিযোদ্ধা দুই রকমের। আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম তাই বলছি। এক ধরণের মুক্তিযোদ্ধা স্বেচ্ছায় যুদ্ধে গেছে, তাদের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯৯ ভাগ ছিল না, ১০০ ভাগ ছিল জেনেই তারা যুদ্ধে গেছে।

‘আরেক ধরণের মুক্তিযোদ্ধা ছিল ঘটনাচক্রে। জিয়াউর রহমান ঘটনাচক্রে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ঘটনাচক্রে না হলে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত থাকতেন না।’

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। না হলে রাজাকারদের কেন পদ দিলেন? আর আপনারা এখন তার স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক করেন। কোন ড্রামের উপর দাঁড়িয়ে জিয়া বেতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এমন বেতার ঘোষক ৬ জন ছিলেন।’

‘স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে ৬ টি শর্ত পূর্ণ করতে হয়। তার সবকিছু একমাত্র বঙ্গবন্ধুর ছিল। অতএব এসব আজেবাজে বিতর্ক করে সময় নষ্ট করবেন না। ১৬ কোটি মানুষের সময়ের মূল্য অনেক।’

সরকার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় যখন থাকবেন আশপাশে ভাল করে তাকাবেন। আশপাশে মুশতাক আছে কিনা দেখবেন। আপনারা আওয়ামী লীগ করেন, আমি আওয়ামী লীগের কর্মীও না। তাই আমার বলতে সমস্যা নাই, আপনারা বললে সাথে সাথেই বহিষ্কার হবেন। কথাটি হল- বঙ্গবন্ধুর আশপাশে একজন মোশতাক ছিল। আর এখন আপনাদের আশপাশে মুশতাকের সংখ্যা অনেক বেশি। দেখছেন না কি হচ্ছে, না হলে মন্ত্রিসভায় এসব হচ্ছে কেন?

এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট বেচাকেনার অভিযোগও আনেন।

বারকাত বলেন, ‘একাত্তরে ৯৩ ভাগ মানুষ গ্রামে ছিল, তাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ গ্রামের মানুষের মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গ্রামকে ভুলে যাওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।’

‘৭৫ পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র গরিবের সন্তানকে শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেজন্যই প্রতি ৩ জনের ১ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় পড়ে, যারা গরীব’ যোগ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের ‘স্বপক্ষের শক্তির’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, আরও কি কি সব আছে। অনেক কিছু বলেন আপনারা। কিন্তু ৭১-এর অক্টোবরে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের পরীক্ষা দিয়েছে, এ সব আমি বের করেছি। ওদের স্বাক্ষরও আছে। সেদিন থেকে আমি তাদের বই পড়ি না। কারণ যারা যুদ্ধই করে না, তারা কি বুঝবে যুদ্ধের?’

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের কর্মীরাও প্রতিবাদ করেনি। এটি আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা।’

ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি কিসের আলামত? যাতে শেখ হাসিনা দেশটাকে সুষ্ঠুভাবে চালাতে না পারে সে ষড়যন্ত্র চলছে।’

আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সানবিডি/ঢাকা/রাআ