‘আন্দোলন ছাড়া কোন পথ নেই বিএনপির’

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২২-১০-২২ ১৭:৩৮:০৮


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলন ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোন পথ নেই। কোন বাধাই সরকার পতন আন্দোলন ঠেকানো যাবে না।

শনিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আপনারা (বিএনপি নেতাকর্মীরা) অসাধ্যকে সাধন করেছেন। তিন দিন ধরে জল-স্থল সবখানে গণপরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। গত দুদিন ধরে লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও কি সরকার এই জনসমাবেশকে বাধা দিতে পেরেছে। ইতিহাস বলে, জনগণের ন্যায়সঙ্গত যে দাবি, তা হামলা করে দাবিয়ে রাখা যায় না।

তিনি বলেন, গত দুদিন ধরে ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। বিএনপির মিছিলে গুলি করা হয়েছে। ২০ জন গুলিবিদ্ধ। সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের নৌকা ডুবিয়ে দিয়ে কয়েকশ নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। গাজীর হাটে একজন নেতা পানিতে ডুবে গেছে। এখনও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজকে নেতাকর্মীরা লড়াই করেই এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

পুলিশের গুলিতে নিহত নেতাদের স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গুলির সামনে, বন্দুকের সামনে বুক পেতে দিয়েছে। কারণ তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্র দেখতে চায়।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। ক্ষমতায় এসে বিচারপতি খায়রুল হককে দিয়ে সংবিধান পরিবর্তন করে চিরস্থায়ী ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্ত করেছে। আমাদের সকল গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিন। অন্যথায় পালাবার পথ পাবেন না।

বিএনপির নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, ভয়াবহ নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আপনাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কষ্ট করে আজকে আপনারা এই সমাবশে এসেছেন। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

এদিকে, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে খুলনায় গণপরিবহন ও লঞ্চ বন্ধ রয়েছে। সমাবেশে যোগ দিতে নানা কৌশলে শুক্রবার রাতেই নেতা-কর্মীরা খুলনায় আসেন। শনিবার দুপুর পৌনে ১২টায় নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে নির্ধারিত সময়ের আগেই সমাবেশ শুরু হয়। দলে দলে সমাবেশে যোগ দেন নেতা-কর্মীরা। সমাবেশস্থল জনস্রোতে রূপ নেয়।