দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: সুজন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-১০-২২ ২১:৫০:০৪


দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন ওই বার্তাই দিয়েছে বকলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।

শনিবার (২২ অক্টোবর) ‘কী বার্তা দিলো গাইবান্ধা আসনের উপনির্বাচন’ শীর্ষক এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে সুজন এ দাবি করে। সংবাদ সম্মেলনে এই বেসরকারি সংস্থা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ করেন। এ কাজটি রাজনীতিকদেরই করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওই উপনির্বাচন বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সুজন। একইসঙ্গে অনিয়ম ঠেকাতে পদক্ষেপ না নিয়ে নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এ সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গাইবান্ধার উপনির্বাচনে স্পষ্ট হলো দলীয় সরকারের অধীনে একটি উপনির্বাচনও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা সম্ভব না। গাইবান্ধার-৫ আসনের উপনির্বাচন সেই বার্তাই দিয়েছে। এর কারণ হচ্ছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সীমাহীন দলীয়করণ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ করতে হলে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে চাইলে সাংবিধানিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

বিদ্যমান নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা হলো ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাতটি দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছে। সেখানে যারা ক্ষমতায় ছিল, যাদের অধীনে নির্বাচন হয়েছে, তারাই ক্ষমতায় অব্যাহত থেকেছে। সেখানে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেক রকম প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি বলেন, গাইবান্ধা-৫ উপ-নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে মাঠ প্রশাসনে সীমাহীন দলীয়করণ হয়েছে। তাই এজন্য নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষতার জন্য নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে। তবে তত্বাবধায়ক সরকারও হতে পারে। আবার সর্বদলীয় সরকারও হতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও হতে পারে। এটি ঠিক করবেন রাজনীতিবিদরাই।

সুজন সম্পাদক বলেন, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট বলা উচিত, তারা যেন সাংবিধানিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনেন; যাতে নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার যে ম্যান্ডেট আছে তা প্রতিপালন করতে পারে। একইসঙ্গে ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা দরকার। এ ইভিএম ব্যবহারের ফলে আরও বিরাট ঝুঁকির সৃষ্টি হবে, যা আমাদের ভয়াবহ সমস্যার দিকে নিয়ে যাবে।

গাইবান্ধা-৫ আসনে অনিয়ম বন্ধে ইসি আগ থেকে পদক্ষেপ না নেওয়ায় সরকারের সঙ্গে কোনও যোগসাজশ আছে কী না— তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে সুজন। এ বিষয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযোগ তোলা এবং অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে অনেক প্রিজাইডিং কর্মকর্তা থেকে সাদা কাগজে ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে’ এমন প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার নজিরবিহীন পদক্ষেপ সন্দেহকে ঘনীভূত না করে পারে না। এছাড়াও কমিশনের এমন কঠোরতার কারণে জাতীয় নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আর প্রয়োজন নেই— একজন মন্ত্রীর এমন বক্তব্যও জনগণকে সন্দিহান করতে বাধ্য।

এএ