ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: খুলনায় প্রস্তুত ৪০৯ আশ্রয়কেন্দ্র

জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২২-১০-২৪ ১০:৩৬:১৬


ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনায় দমকা বাতাসের সঙ্গে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত নগরীতে ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি এড়াতে জেলাটিতে ৪০৯টি সাইক্লোন শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ উপকূলের ১৯টি জেলায় আঘাত হানতে পারে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে খুলনা অঞ্চলে রোববার দুপুর থেকেই আকাশ মেঘলাসহ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত ১২টার পর থেকে দমকা বাতাসের সঙ্গে মাঝারি আকারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে বৃষ্টিপাত আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি এড়াতে খুলনা জেলার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫০ জনের জন্য ৪০৯টি সাইক্লোন শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলায় ১১৮টি, কয়রা উপজেলায় ১১৭টি, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ২৭টি, ডুমুরিয়া উপজেলায় ২৫টি, পাইকগাছা উপজেলায় ৩২টি, তেরখাদা উপজেলায় ২২টি, রূপসা উপজেলায় ৩৯টি, ফুলতলা উপজেলায় ১৩টি ও দিঘলিয়া উপজেলায় ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মো.মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জরুরি শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা, আশ্রয়কেন্দ্রে যারা আসবেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আগতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিশেষ করে কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে, তাদের যাতে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়-সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের আঘাতে খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, সাতক্ষীরার, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলায় খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় ৬৫ জন মারা যান। এছাড়া ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।