তনু হত্যার তদন্তভার ডিবিতে
প্রকাশ: ২০১৬-০৩-২৭ ১০:৩৩:১৭
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ছয়দিন পরও ঘাতকদের চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে ডিবির পাশাপাশি র্যাবসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। এদিকে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার র্যাব কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তনুর বাবা-মা, দুই ভাই ও চাচাতো বোনকে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যারহস্য খুব শিগগির উদ্ঘাটন হবে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, এর আগে ঘটে যাওয়া সব হত্যাকাণ্ডের রহস্য যেমন উদ্ঘাটন হয়েছে, তেমনি তনু হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। তনু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতির আশা দিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশজুড়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করতে র্যাব কাজ করছে। খুব শিগগিরই তদন্তের ভালো খবর দিতে পারব বলে আশা করছি। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শুক্রবার রাতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি জেলা পুলিশ, র্যাব ও একাধিক সংস্থা চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। এদিকে র্যাব-১১ অধিনায়ক খোরশেদ আলম কুমিল্লায় সাংবাদিকদের জানান, মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর থেকে তনুর বাবা-মা, দুই ভাই ও চাচাতো বোনকে শুক্রবার কুমিল্লায় র্যাব কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তনুর পরিবারের সদস্যরা কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুরে তাদের ভাড়া বাড়িতে ফেরত যান। তবে নিহত তনুর চাচা আলাল হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে মির্জাপুর থেকে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ও তার বড় ভাই নাজমুল হোসেনসহ পরিবারের ৫ সদস্যকে র্যাব নিয়ে যাওয়ার পর এখনও গ্রামের বাড়ি ফেরেননি তারা।
তনু হত্যার বিচারের দাবিতে শনিবারও কুমিল্লাসহ সারা দেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা। কুমিল্লা ব্যুরো থেকে আবুল খায়ের জানান, তনুর সহপাঠী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভে উত্তাল ছিল কুমিল্লা নগরী। সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা জানান, আসামিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। শনিবার বেলা ১টায় কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে টাউন হলের সামনে বাংলাদেশ কবি ফোরাম বাকফ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
নোয়াখালী থেকে স্টাফ রিপোর্টার মো. হানিফ জানান, তনু হত্যার বিচার ও ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নোয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। এ সময় দ্রুত তনুর ঘাতকদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, তনুর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার মানবন্ধন ও মিছিল করে কয়েকটি সংগঠন। স্থানীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘অবিরাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধনে সংগঠনের সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এছাড়া ফেনীর দাগনভূঞায় ও সাতক্ষীরায় তনু হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। দাগনভূঞা প্রতিনিধি জানান, কয়েকটি সংগঠন মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে গ্যালারিতে বসেও তনু হত্যার বিচার দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














